আমেরিকা

বর্ডার প্যাট্রোল পর্যবেক্ষণের পর গ্লোবাল এন্ট্রি বাতিল, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে নারীর মামলা

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ও প্রশিক্ষিত আইনগত পর্যবেক্ষক (লিগ্যাল অবজারভার) নিকোল ক্লেল্যান্ড ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বর্ডার প্যাট্রোল) কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার কারণে প্রতিশোধমূলকভাবে তাঁর গ্লোবাল এন্ট্রি সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা আদালতে দায়ের করা মামলার চারজন বাদীর একজন নিকোল ক্লেল্যান্ড। এর আগে তিনি জানান, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি অপারেশন মেট্রো সার্জ চলাকালে এক বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তার গাড়িকে আইনগতভাবে অনুসরণ করছিলেন। সে সময় ওই কর্মকর্তা তাঁর নাম আগে থেকেই জানতেন এবং তাঁকে আর অনুসরণ না করার সতর্কবার্তা দেন। ক্লেল্যান্ডের দাবি, ওই ঘটনার মাত্র তিন দিনের মাথায় কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁর গ্লোবাল এন্ট্রি সুবিধা বাতিল করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “গ্লোবাল এন্ট্রি সুবিধা হারানোই আমার মূল উদ্বেগ নয়। আমি জানতে চাই, কীভাবে এটি বাতিল করা হলো। সরকার মানুষকে যেভাবে নজরদারিতে রাখছে, তার কতটা আইনসম্মত এবং কতটা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি—সেটিই বড় প্রশ্ন।” মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ফেডারেল সংস্থা এবং তাদের বর্তমান প্রধানদের বিবাদী করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তার আচরণ ছিল ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিশোধমূলক, যা ক্লেল্যান্ডের সংবিধান-স্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের অধিকারের লঙ্ঘন। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর থেকে ক্লেল্যান্ড সরকারি নজরদারির আশঙ্কায় ব্যক্তিগত অনলাইন যোগাযোগ সীমিত করেছেন। এছাড়া প্রতিবার ভ্রমণের সময় তিনি আতঙ্ক ও উদ্বেগে ভোগেন। এমনকি একসময় তাঁর আশঙ্কা ছিল, গ্লোবাল এন্ট্রি বাতিলের পাশাপাশি সরকার হয়তো তাঁর পাসপোর্টও অকার্যকর করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, নিকোল ক্লেল্যান্ড ২০১৪ সাল থেকে গ্লোবাল এন্ট্রি সুবিধা ব্যবহার করে আসছিলেন। ২০২৪ সালে তাঁর সদস্যপদ পুনরায় অনুমোদন করা হয়েছিল, যা সাধারণত পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম