আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে কাগজ কারখানায় ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফোরণ, নিহত ১

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে একটি কাগজ কারখানায় ভয়াবহ রাসায়নিক বিস্ফোরণে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এখনো নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকালে লংভিউ শহরের নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং কারখানায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শহরটি সিয়াটল থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। দমকল বিভাগ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও নয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আটজন কারখানার কর্মী এবং একজন দমকলকর্মী। বিস্ফোরণের পর ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকটি এখনো অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে, ফলে উদ্ধার কাজ জটিল হয়ে পড়েছে। কোম্পানির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হোয়াইট লিকার” নামের রাসায়নিকভর্তি একটি ট্যাংক ফেটে যাওয়ার কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। কাগজ তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত এই রাসায়নিক অত্যন্ত ক্ষয়কারী। দমকল বিভাগ জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় উদ্ধারকর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন। ট্যাংকটি স্থিতিশীল করতে কাঠামোগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, এরপরই নিরাপদভাবে উদ্ধার অভিযান এগোনো সম্ভব হবে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, ট্যাংকে প্রায় ৮০ হাজার গ্যালন রাসায়নিক ছিল। পরে কর্মকর্তারা জানান, সেখানে প্রায় ৯ লাখ গ্যালন রাসায়নিক ছিল। এর মধ্যে এখনো প্রায় ৯০ হাজার গ্যালন রাসায়নিক ট্যাংকের ভেতরে থাকতে পারে। কাউলিটজ ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের প্রধান স্কট গোল্ডস্টেইন জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের শরীরে আগুনে পোড়া ও বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসের কারণে আঘাত লেগেছে। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাধারণ মানুষকে এলাকা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। তবে এই আগুন আশপাশের বড় কোনো এলাকায় হুমকি তৈরি করছে না। দমকল বিভাগ জানিয়েছে, নিহত ও আহতদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হবে না, কারণ আগে তাদের পরিবারের সদস্যদের জানানো প্রয়োজন। “হোয়াইট লিকার” হলো সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও সোডিয়াম সালফাইডযুক্ত ক্ষারধর্মী রাসায়নিক। ওয়াশিংটনের গভর্নর বব ফার্গুসন জানিয়েছেন, স্থানীয় কর্মকর্তাদের সহায়তায় পরিবেশ বিভাগের কর্মীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাণহানির খবর শুনে আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহত ও আহতদের পরিবার এবং উদ্ধারকর্মীদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।” স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই মাসেও একই কারখানায় বড় ধরনের আগুন লেগেছিল। তখন সেখানে কাঠের স্তূপে কয়েকদিন ধরে আগুন জ্বলেছিল। কারখানাটিতে টিস্যু, প্রিন্টার পেপার, কাপ, প্লেট ও কার্টনের মতো পণ্য তৈরি করা হয়। সেখানে প্রায় এক হাজার কর্মী কাজ করেন। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়াতেও একটি রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেটি এখন নিরাপদ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম