নিউইয়র্কে ইরানি-আমেরিকান মানবাধিকারকর্মী মাসিহ আলিনেজাদকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে এক মার্কিন নাগরিককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত জনাথন লোডহোল্ট (৩৭) আগে ট্রাকচালক হিসেবে কাজ করতেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তিনি ২০২৪ সালে ব্রুকলিনে মাসিহ আলিনেজাদের বাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হত্যাচক্রান্তে নজরদারি ও অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এফবিআই হামলা চালানোর আগেই পুরো পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দেয়। ইরান সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত মাসিহ আলিনেজাদ বিবিসিকে বলেন, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ হলেও এখনো নিরাপদ অনুভব করছেন না।
তিনি বলেন, “স্বস্তি মানে সব শেষ হয়ে যাওয়া। কিন্তু এটি শেষ হয়নি। আমেরিকার মাটিতে আমাকে হত্যার জন্য এটি ইরানের তৃতীয় চেষ্টা।”
আলিনেজাদ আরও বলেন, “প্রতিবার তারা ব্যর্থ হয়, আবার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ফিরে আসে।”
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, পুরো হত্যাচক্রান্ত ইরান থেকেই পরিচালিত হয়েছিল। তবে হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য অর্থের বিনিময়ে কিছু মার্কিন নাগরিককে ভাড়া করা হয়।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই মামলায় কার্লাইল রিভেরাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে জনাথন লোডহোল্টের সাজা ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন মাসিহ আলিনেজাদ। তিনি বলেন, আদালতে নিজের নামের সঙ্গে বারবার “হত্যা” শব্দটি শুনতে তার খুব কষ্ট হয়েছে।
তার ভাষায়, “সে দাঁড়িয়ে বলেছে, সে আমাকে চিনতও না, শুধু টাকার দরকার ছিল।”
আদালতে উপস্থাপিত বার্তায় দেখা যায়, হামলার আগে ষড়যন্ত্রে জড়িত আরেক ব্যক্তির সঙ্গে জনাথন টাকার দেরিতে পাওয়া নিয়ে কথাবার্তা বলছিলেন।
এ বিষয়ে আলিনেজাদ বলেন, “আমার জীবনের মূল্য ছিল শুধু টাকার একটি সাধারণ বার্তা।”
তবে সবকিছুর পরও তিনি বলেন, তাকে চুপ করানো যাবে না।
আলিনেজাদের ভাষায়, “আমার কণ্ঠ তাদের অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী।”
এলএবাংলাটাইমস/ওএম