যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত দেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন।
শুক্রবার দেওয়া রায়ে ওয়াশিংটন ডিসির জেলা আদালতের বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন করা যাবে না। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত সংস্কার কাজের জন্য কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনাও স্থগিত করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৪ দিনের মধ্যে কেনেডি সেন্টারের নাম থেকে ট্রাম্পের নাম সরাতে হবে। এছাড়া ভবনের বাইরের সাইনবোর্ড, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সব ধরনের সরকারি নথি ও প্রচারসামগ্রী থেকেও তার নাম মুছে ফেলতে হবে।
তবে কেনেডি সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ আবার তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
ট্রাম্প বলেন, “যদি আমাকে আমার মতো করে প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক, সাংস্কৃতিক ও অবকাঠামোগতভাবে পুনর্গঠন করতে না দেওয়া হয়, তাহলে এই যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার কোনো আগ্রহ আমার নেই।”
গত বছর ট্রাম্প কেনেডি সেন্টারের নামের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ নেন। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যকে পরিবর্তন করেন এবং নিজেও বোর্ডের সদস্য হন। এরপর ভোটের মাধ্যমে তাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
ডিসেম্বরে বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রটির নতুন নাম রাখা হয় “দ্য ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প অ্যান্ড জন এফ. কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস”। পরদিনই ভবনের সামনে নতুন নামের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।
নাম পরিবর্তনের পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। অনেক শিল্পী তাদের নির্ধারিত অনুষ্ঠান বাতিল করেন এবং টিকিট বিক্রিও কমে যায়।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ৪ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া ব্যাপক সংস্কার কাজের জন্য কেন্দ্রটি দুই বছরের জন্য বন্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীকে সম্মান জানিয়ে করা হবে।
তবে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জয়েস বিটি এবং সাবেক কয়েকজন ট্রাস্টি আদালতে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, বোর্ডের বিষয়ে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। পরে তারা কেন্দ্রটি বন্ধ করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধেও আইনি চ্যালেঞ্জ জানান।
রায়ের পর বিটি বলেন, “আজকের রায় প্রমাণ করেছে যে কেন্দ্রটির নাম পরিবর্তন ও বন্ধ করার উদ্যোগের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কেনেডি সেন্টার আমেরিকার জনগণের সম্পদ, এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।”
অন্যদিকে কেনেডি সেন্টারের মুখপাত্র রোমা দারাভি বলেন, আপিলে আদালত ট্রাম্পের সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবে বলে তারা আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রটির জরুরি সংস্কার প্রয়োজন এবং এ জন্য ট্রাম্পের উদ্যোগে কংগ্রেস ২৫৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।
বিচারক কুপার তার ৯৪ পৃষ্ঠার রায়ে উল্লেখ করেন, কেনেডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার আইন স্পষ্টভাবে বলে যে প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি-র নামে থাকবে। কংগ্রেসই এ নাম দিয়েছে এবং কেবল কংগ্রেসই তা পরিবর্তন করতে পারে।
ফলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কেন্দ্রটির নাম আবার আগের নাম “জন এফ. কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস”-এ ফিরে যাবে। ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিহত প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির স্মরণে এই নামেই প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন হয়েছিল।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম