যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির চাপে ক্রমশ ঋণের ফাঁদে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। খাদ্য, বাসস্থান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে অনেকেই ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, ফলে বেড়েছে বকেয়া ঋণের পরিমাণ।
নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ক্রেডিট কার্ড ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার হার গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ১৩ শতাংশ ক্রেডিট কার্ড হিসাব ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর সর্বোচ্চ হার।
বর্তমানে মার্কিন ভোক্তাদের মোট ক্রেডিট কার্ড ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের গড় সুদের হার প্রায় ২১ শতাংশ, যা ঋণগ্রহীতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং দৈনন্দিন খরচ বৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবার সময়মতো বিল পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে বকেয়া ঋণ ও সুদের বোঝা আরও বাড়ছে।
এদিকে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ফিডেলিটি সতর্ক করে জানিয়েছে, অনেক মার্কিন নাগরিক এখন তাদের অবসরকালীন সঞ্চয় তহবিল ৪০১(কে) থেকে অর্থ তুলে বর্তমান খরচ মেটানোর চেষ্টা করছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি উদ্বেগজনক একটি প্রবণতা। কারণ বর্তমানের আর্থিক সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেক মানুষ নিজেদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণ ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের ঋণের চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।
তাদের মতে, আজকের অপরিশোধিত বিল ও ক্রমবর্ধমান ঋণ ভবিষ্যতে অনেক পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণ-সংকটের চক্র তৈরি করতে পারে, যা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে উঠবে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম