আমেরিকা

ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ‘চমৎকার’, তবে ওজন কমানো ও বেশি ব্যায়ামের পরামর্শ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে “চমৎকার স্বাস্থ্যের” অধিকারী। তবে বয়স ও শারীরিক সুস্থতা বিবেচনায় তাঁর ওজন কমানো এবং আরও বেশি শারীরিক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউস শুক্রবার প্রেসিডেন্টের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে চিকিৎসক ক্যাপ্টেন শন বারবাবেলা জানান, আগামী মাসে ৮০ বছরে পা দিতে যাওয়া ট্রাম্পের হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, স্নায়ুতন্ত্র ও সামগ্রিক শারীরিক কার্যক্ষমতা শক্তিশালী ও স্বাভাবিক রয়েছে। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, পরীক্ষায় “সবকিছুই নিখুঁতভাবে ঠিক আছে”। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ওজন বর্তমানে ২৩৮ পাউন্ড (প্রায় ১০৮ কেজি), যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের তুলনায় প্রায় ১৪ পাউন্ড (৬.৩ কেজি) বেশি। চিকিৎসক তাঁকে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং ওজন কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ওষুধও সেবন করছেন। স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য নেওয়া মন্ট্রিয়ল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট পরীক্ষায় ট্রাম্প ৩০-এর মধ্যে পূর্ণ ৩০ নম্বর পেয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর বিশ্রামকালীন হৃদস্পন্দন ছিল প্রতি মিনিটে ৭৩ বার এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা অনুযায়ী তাঁর “কার্ডিয়াক বয়স” প্রকৃত বয়সের তুলনায় প্রায় ১৪ বছর কম বলে ধারণা করা হয়েছে। চিকিৎসক আরও জানান, ট্রাম্পের ব্যস্ত কর্মসূচি—উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, জনসমাগমে অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড—তাঁর সামগ্রিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। গত বছর ট্রাম্পের হাতে কালশিটে দাগ এবং পায়ে ফোলাভাব নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। পরে জানা যায়, তিনি “ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি” নামে শিরা-সংক্রান্ত এক সমস্যায় আক্রান্ত, যেখানে পায়ের শিরাগুলো ঠিকমতো রক্ত হৃদপিণ্ডে ফিরিয়ে নিতে পারে না। এর ফলে পায়ে রক্ত জমে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। তবে সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর পায়ের ফোলাভাব আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। হাতে থাকা কালশিটে দাগকে চিকিৎসক ব্যাখ্যা করেছেন নিয়মিত করমর্দন এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে অ্যাসপিরিন সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে। তিনি বলেন, এটি অ্যাসপিরিন ব্যবহারের একটি সাধারণ ও ক্ষতিকর নয় এমন প্রভাব। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বর্তমানে অ্যাসপিরিনের পাশাপাশি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের দুটি ওষুধ গ্রহণ করছেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় সব স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদানও হালনাগাদ রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি গত ২৫ বছর ধরে চিকিৎসকদের সাধারণত সুপারিশ করা মাত্রার চেয়ে বেশি অ্যাসপিরিন সেবন করছেন। তিনি বলেন, রক্ত ঘন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এড়াতেই তিনি প্রতিদিন ৩২৫ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন গ্রহণ করেন। ব্যায়াম প্রসঙ্গে ট্রাম্প অতীতে বলেছেন, গলফ খেলা ছাড়া নিয়মিত শরীরচর্চা তাঁর পছন্দ নয়। ট্রেডমিলে দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দৌড়ানোকে তিনি “বিরক্তিকর” বলে উল্লেখ করেছিলেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টদের জন্য বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক না হলেও সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এটি একটি প্রচলিত রীতি হয়ে উঠেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্বাস্থ্য নিয়েও তাঁর মেয়াদের শেষদিকে ব্যাপক জনআলোচনা হয়েছিল।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম