আমেরিকা

হরমুজ প্রণালিতে হেলিকপ্টার ভূপাতিতের পর যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। উভয় দেশই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, সোমবার একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার জবাবে তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার কেন্দ্র এবং নিয়ন্ত্রণ স্টেশনে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিসহ মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে। কুয়েতও জানিয়েছে, তারা একটি হামলা প্রতিহত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের হামলাকে “অনুপাতিক জবাব” হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে আইআরজিসি মার্কিন হামলাকে “নৃশংস” বলে আখ্যা দিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ভূপাতিত অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে সোমবার একটি মার্কিন সমুদ্র-চালিত ড্রোনের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়। এ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান চালানোর বিষয়টি এই প্রথম প্রকাশ্যে স্বীকার করল মার্কিন বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, একটি ইরানি ড্রোন হেলিকপ্টারটিতে হামলা চালিয়েছিল। তবে হামলাটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ও নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়। ইরান জানিয়েছে, এসব হামলায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ও দুটি পানির ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল জাস্ক, সিরিক এবং উপসাগরীয় দ্বীপ কেশম। এদিকে বাহরাইনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলার সময় সেখানে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে হামলাগুলো প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে টহলরত অবস্থায় অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হয়। তিনি জানান, দুই পাইলটই নিরাপদে আছেন এবং আহত হননি। তবে তিনি বলেন, “এই হামলার জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।” যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন জানান, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা দুঃখিত যে পরিস্থিতি এ পর্যায়ে এসেছে, কিন্তু বিষয়টি মোকাবিলা করতেই হবে।” অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, “ইরান কোনো হামলা বা হুমকির জবাব ছাড়বে না।” তিনি আরও বলেন, বিদেশি বাহিনীগুলো যদি নিরাপদ থাকতে চায়, তাহলে তাদের অঞ্চলটি ছেড়ে যাওয়া উচিত। ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “আমরা কূটনীতির ভাষা পছন্দ করি, তবে প্রয়োজন হলে অন্য ভাষাও খুব ভালোভাবে বলতে জানি।” এই উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালায় ইসরায়েল। এর আগে তেহরান সতর্ক করেছিল, দক্ষিণ লেবাননে নতুন ইসরায়েলি হামলা হলে তারা আবারও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেবে। যদিও সপ্তাহান্তে সংঘর্ষের পর ইসরায়েল ও ইরান সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ করেছিল, নতুন এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর মতে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই অগ্রগতি দেখা যেতে পারে এবং তখন হরমুজ প্রণালিও আবার স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া হতে পারে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম