ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত অপরাধী চক্র ট্রেন দে আরাগুয়ার নেতা নিনিও গেরেরো মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, তার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড ভেনেজুয়েলায় একটি দ্রুত ও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে নিনিও গেরেরোকে হত্যা করেছে।
নিহত গেরেরোর পুরো নাম হেক্টর রুস্থেনফোর্ড গেরেরো ফ্লোরেস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে কুখ্যাত অপরাধী সংগঠনগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই গ্যাংকে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে হামলার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে একটি সবুজ রঙের ভবন ও পাশের একটি স্থাপনা বিস্ফোরণে ধ্বংস হতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, এই অভিযান ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষও তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা একে সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি ‘যৌথ অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় ট্রেন দে আরাগুয়ার একটি ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়।
ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির বলিভার অঙ্গরাজ্যে সংগঠিত অপরাধ দমনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার যৌথ অভিযানে গেরেরো নিহত হন।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী এক নাটকীয় অভিযানে তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে বিচার মুখোমুখি করে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছিল, মাদুরো ট্রেন দে আরাগুয়ার সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন। ওই মামলায় গেরেরোর নামও সহ-ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর উত্তরসূরি ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়। তার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় এবং ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ আহরণে সহযোগিতার আলোচনা শুরু হয়।
গেরেরোর নেতৃত্বে ট্রেন দে আরাগুয়া ভেনেজুয়েলার বাইরে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু ও চিলিসহ বিভিন্ন দেশে বিস্তার লাভ করে। অভিবাসীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির পাশাপাশি মানবপাচার, ভাড়াটে খুন এবং অপহরণের মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ে সংগঠনটি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গেরেরো একটি কারাগারভিত্তিক গ্যাংকে আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্কে রূপ দেন। তার গ্রেপ্তারের তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মিলিয়ন ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।
গেরেরো বহুবার কারাগারে গেছেন এবং পালিয়েছেন। ২০১২ সালে তিনি এক কারারক্ষীকে ঘুষ দিয়ে পালিয়ে যান। পরে ২০১৩ সালে আবার গ্রেপ্তার হন।
কারাগারে ফিরে তিনি উত্তর ভেনেজুয়েলার টোকোরন কারাগারকে কার্যত একটি বিলাসবহুল কমপ্লেক্সে পরিণত করেন। সেখানে চিড়িয়াখানা, রেস্তোরাঁ, নাইটক্লাব, বেটিং শপ এবং সুইমিং পুল পর্যন্ত ছিল।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মাদুরো সরকার ১১ হাজার সেনা মোতায়েন করে কারাগারটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। তবে অভিযানের আগেই গেরেরো আবার পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, কারাগারের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান করেও তিনি বলিভার অঙ্গরাজ্যের স্বর্ণখনি, ক্যারিবীয় উপকূলের মাদকপাচার রুট এবং ভেনেজুয়েলা-কলম্বিয়া সীমান্তের অবৈধ পারাপার পথগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে ভেনেজুয়েলায় অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট শুরু হলে ট্রেন দে আরাগুয়া দেশটির বাইরে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে। বর্তমানে সংগঠনটির কার্যক্রম অন্তত আটটি দেশে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচারে ব্যবহৃত বলে সন্দেহভাজন নৌযানের বিরুদ্ধে একাধিক হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নৌযানের কিছু ট্রেন দে আরাগুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর থেকে এসব হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে হামলার শিকার নৌযানগুলোতে সত্যিই মাদক বা মাদক পাচারকারী ছিল কি না, সে বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
এ কারণে অভিযানগুলোর বৈধতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কিছু আইন বিশেষজ্ঞের মতে, বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই বেসামরিক ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এসব হামলাকে বৈধ বলে দাবি করেছে। গত বছর কংগ্রেসে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক সশস্ত্র সংঘাতে রয়েছে বলে নির্ধারণ করেছেন এবং মাদক পরিবহনে জড়িত নৌযানের সদস্যদের ‘যোদ্ধা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, তার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড ভেনেজুয়েলায় একটি দ্রুত ও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে নিনিও গেরেরোকে হত্যা করেছে।
নিহত গেরেরোর পুরো নাম হেক্টর রুস্থেনফোর্ড গেরেরো ফ্লোরেস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে কুখ্যাত অপরাধী সংগঠনগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই গ্যাংকে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে হামলার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে একটি সবুজ রঙের ভবন ও পাশের একটি স্থাপনা বিস্ফোরণে ধ্বংস হতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, এই অভিযান ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষও তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা একে সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি ‘যৌথ অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় ট্রেন দে আরাগুয়ার একটি ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়।
ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির বলিভার অঙ্গরাজ্যে সংগঠিত অপরাধ দমনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার যৌথ অভিযানে গেরেরো নিহত হন।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী এক নাটকীয় অভিযানে তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে বিচার মুখোমুখি করে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছিল, মাদুরো ট্রেন দে আরাগুয়ার সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন। ওই মামলায় গেরেরোর নামও সহ-ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর উত্তরসূরি ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়। তার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় এবং ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ আহরণে সহযোগিতার আলোচনা শুরু হয়।
গেরেরোর নেতৃত্বে ট্রেন দে আরাগুয়া ভেনেজুয়েলার বাইরে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু ও চিলিসহ বিভিন্ন দেশে বিস্তার লাভ করে। অভিবাসীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির পাশাপাশি মানবপাচার, ভাড়াটে খুন এবং অপহরণের মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ে সংগঠনটি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গেরেরো একটি কারাগারভিত্তিক গ্যাংকে আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্কে রূপ দেন। তার গ্রেপ্তারের তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মিলিয়ন ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।
গেরেরো বহুবার কারাগারে গেছেন এবং পালিয়েছেন। ২০১২ সালে তিনি এক কারারক্ষীকে ঘুষ দিয়ে পালিয়ে যান। পরে ২০১৩ সালে আবার গ্রেপ্তার হন।
কারাগারে ফিরে তিনি উত্তর ভেনেজুয়েলার টোকোরন কারাগারকে কার্যত একটি বিলাসবহুল কমপ্লেক্সে পরিণত করেন। সেখানে চিড়িয়াখানা, রেস্তোরাঁ, নাইটক্লাব, বেটিং শপ এবং সুইমিং পুল পর্যন্ত ছিল।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মাদুরো সরকার ১১ হাজার সেনা মোতায়েন করে কারাগারটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। তবে অভিযানের আগেই গেরেরো আবার পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, কারাগারের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান করেও তিনি বলিভার অঙ্গরাজ্যের স্বর্ণখনি, ক্যারিবীয় উপকূলের মাদকপাচার রুট এবং ভেনেজুয়েলা-কলম্বিয়া সীমান্তের অবৈধ পারাপার পথগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে ভেনেজুয়েলায় অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট শুরু হলে ট্রেন দে আরাগুয়া দেশটির বাইরে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে। বর্তমানে সংগঠনটির কার্যক্রম অন্তত আটটি দেশে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচারে ব্যবহৃত বলে সন্দেহভাজন নৌযানের বিরুদ্ধে একাধিক হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নৌযানের কিছু ট্রেন দে আরাগুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর থেকে এসব হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে হামলার শিকার নৌযানগুলোতে সত্যিই মাদক বা মাদক পাচারকারী ছিল কি না, সে বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
এ কারণে অভিযানগুলোর বৈধতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কিছু আইন বিশেষজ্ঞের মতে, বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই বেসামরিক ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন এসব হামলাকে বৈধ বলে দাবি করেছে। গত বছর কংগ্রেসে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক সশস্ত্র সংঘাতে রয়েছে বলে নির্ধারণ করেছেন এবং মাদক পরিবহনে জড়িত নৌযানের সদস্যদের ‘যোদ্ধা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম