যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানে একটি চুক্তি রোববার সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে এখনো কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছে ইরান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা পাকিস্তানও জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটি ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি চুক্তি সইয়ের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, “সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঠিক তারিখ সম্পর্কে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি আগামীকাল হবে না।”
এর জবাবে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “চুক্তিটি আগামীকাল স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। আর স্বাক্ষরের পরপরই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।”
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের প্রসঙ্গে “উপযুক্ত সময়ে, যখন পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হবে, আমরা সেখানে গিয়ে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ সংগ্রহ করব এবং পরে তা ধ্বংস করা হবে।”
দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গবেষণার মতো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যদি পরিস্থিতি দ্রুত, সহজ ও মসৃণভাবে সমাধান না হয়, তাহলে ওয়াশিংটনের হাতে “চূড়ান্ত বিকল্প” রয়েছে, যদিও তিনি আশা করেন সেটি আর কখনও ব্যবহার করতে হবে না।
এর আগে শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, “আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শান্তি চুক্তির কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি।”
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে এবং আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।”
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচিও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি খুবই কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরে শুরু হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী ইরান তার দায়বদ্ধতা পূরণ করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে এমন একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও শেষ মুহূর্তে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংঘাতের সূচনা হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। চলতি সপ্তাহেও উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার দুটি ঘটনা ঘটেছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম