যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের বিষয়ে দুই দেশের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে স্পষ্ট মতপার্থক্য।
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক-এ অনুষ্ঠিত আলোচনার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেন, ইরান শিগগিরই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র পরিদর্শকদের দেশে ফিরে আসার অনুমতি দিতে পারে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা “আজই” শুরু হতে পারে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পারমাণবিক পরিদর্শন নিয়ে তেহরান কোনো নতুন অঙ্গীকার করেনি। তিনি জানান, ভবিষ্যতে পরিদর্শনের বিষয়টি সংসদ ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বিদ্যমান নীতিমালার আওতায়ই পরিচালিত হবে।
এদিকে আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ৬০ দিনের বিশেষ ছাড়ের ফলে ইরান আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত বৈধভাবে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহ করতে পারবে। এমনকি মার্কিন ডলারে লেনদেন এবং সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে তেল রপ্তানির সুযোগও পাবে দেশটি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, এই ছাড়ের বিনিময়ে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার এবং আইএইএ পরিদর্শকদের ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।
জেডি ভ্যান্স আলোচনাকে “খুব ভালো ভিত্তি” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, ইরান বড় ধরনের অস্ত্র পরিদর্শনে সম্মত হবে। তবে ইরান এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি স্বীকার করেনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান বেশ কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় আইএইএ-র প্রবেশাধিকার স্থগিত করেছিল। পরে সংস্থাটির অবশিষ্ট পরিদর্শকরাও দেশটি ছেড়ে যান।
এদিকে আলোচনার পাশাপাশি লেবাননে উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও লেবাননের মধ্যে একটি সমন্বয় কাঠামো গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, এই উদ্যোগের প্রথম বাস্তব পরীক্ষা হবে লেবাননে। বর্তমানে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ কমেছে এবং একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম