আমেরিকা

রিফ্লেক্টিং পুল আবার খালি হচ্ছে, ভাঙচুরের অভিযোগ ট্রাম্পের

ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক রিফ্লেক্টিং পুল আবারও খালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বহু মিলিয়ন ডলারের সংস্কারের পরও পুলের পানিতে উজ্জ্বল সবুজ শৈবাল (অ্যালজি) জন্মানো এবং রঙ খসে পড়ার ঘটনা নিয়ে আবারও ভাঙচুরকারীদের দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, পুলে প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ একটি কাটা দাগ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং কেউ পানিতে সার (ফার্টিলাইজার) মিশিয়ে দিয়েছে, যার ফলে শৈবালের বিস্তার ঘটেছে। তিনি বলেন, “কেউ যদি ছুরি নিয়ে নেমে পুলটি কেটে নষ্ট করতে শুরু করে, তাহলে আমি কী করতে পারি?” ট্রাম্প জানান, পুলটির সাম্প্রতিক সংস্কারে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। মার্কিন পার্ক পুলিশ জানিয়েছে, রিফ্লেক্টিং পুলে ভাঙচুরের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া আরও পাঁচজনকে ফেডারেল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পানি কর্তৃপক্ষ ডিসি ওয়াটার সোমবার পুলটি খালি করার অনুমতি দিয়েছে। সংস্কারকাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ওয়ারেন্টির আওতায় তারা পুলের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করবে। গত এপ্রিলে ট্রাম্পের উদ্যোগে সংস্কার কাজের জন্য পুলটি সম্পূর্ণ খালি করা হয়েছিল এবং চলতি মাসের শুরুতে আবার পানি ভরা হয়। ১৯২০-এর দশকে নির্মিত এই পুলটি লিংকন মেমোরিয়াল ও ওয়াশিংটন মনুমেন্ট-এর মাঝখানে অবস্থিত এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ৩০ ফুট। বছরের পর বছর ধরে পুলটিতে পানি লিক হওয়া, কাঠামোগত দুর্বলতা, পাইপের ত্রুটি, শৈবাল জন্মানো এবং পাখির মল জমার মতো সমস্যা ছিল। তবে সংস্কারের পরও শৈবালের সমস্যা থেকে মুক্তি মেলেনি। পাশাপাশি পুলের তলায় দেওয়া গাঢ় নীল রঙও খসে পড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস-এর কর্মীরা শৈবাল দূর করতে পানিতে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ব্যবহার করছেন। এদিকে খসে পড়া রঙ পানির ওপর ভেসে উঠছে, যা অনেক দর্শনার্থী তুলে নিচ্ছেন। সোমবার ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, রিফ্লেক্টিং পুলের ক্ষতি করার সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি লিখেছেন, এমন স্থাপনা ধ্বংস বা ধ্বংসের চেষ্টা করলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে এবং আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। পরে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এখন তার ধারণা পুলটিতে প্রায় ৩৫০ ফুট দীর্ঘ একটি কাটা অংশ রয়েছে। এছাড়া কেউ হয়তো পানিতে সার মিশিয়ে দিয়েছে, যা শৈবালের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। এদিকে রিফ্লেক্টিং পুল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ-এর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, এবিসি নিউজ পুলটির পূর্ববর্তী সংস্কার প্রকল্পের ব্যয় ও সমস্যাগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরেনি। ট্রাম্প দাবি করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জো বাইডেন প্রশাসনের সময় রিফ্লেক্টিং পুলে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় করা হলেও প্রকল্পটি সফল হয়নি। তার ভাষায়, “আমি প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার খরচ করেছি এবং কাজটি খুব ভালো হয়েছে। শুধু ভাঙচুরের কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা আমরা এখন ঠিক করছি।” তিনি আরও বলেন, সংস্কার প্রকল্পটি শুরুতে ধারণার চেয়ে অনেক বড় ছিল এবং এতে পুলের বাইরের এলাকা ও ফুটপাতও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম