ভারতভিত্তিক তিনটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কুখ্যাত বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যরাও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে ফেডারেল প্রসিকিউটররা মঙ্গলবার এ তথ্য জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে চলা তদন্তের ফল হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তদন্তে ভারতভিত্তিক অপরাধচক্রগুলোর বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশ করা তিনটি পৃথক অভিযোগপত্রে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি বিল এসাইলি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র যারা ভয়ভীতি, মাদক ও সহিংসতা ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকার সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, "এসব অপরাধীদের জন্য কোথাও নিরাপদ আশ্রয় নেই।"
মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো, ২০২৩ সালে কানাডায় শিখ নেতা হারদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত থাকার অভিযোগ। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের সারে শহরের গুরু নানক শিখ গুরুদোয়ারার বাইরে পার্কিং এলাকায় মুখোশধারী দুই বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন ৪৫ বছর বয়সী নিজ্জার।
তিনি খালিস্তান আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত নেতা ছিলেন এবং ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলে স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাতেন।
ফেডারেল প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন, ভারতের পাঞ্জাবের ৩৩ বছর বয়সী লরেন্স বিষ্ণোই এবং ৩২ বছর বয়সী সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে "গোল্ডি ব্রার" নিজ্জার হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। গোল্ডি ব্রার এখনও পলাতক, আর লরেন্স বিষ্ণোই ২০১৫ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন।
গত বছর কানাডা সরকার বিষ্ণোই গ্যাংকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এর ফলে দেশটিতে গ্যাংটির সম্পদ জব্দ ও অর্থ জব্দ করার আইনি ক্ষমতা পায় সরকার।
২০২৪ সালে নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চার ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কানাডা ও ভারতের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে তারা বিচারাধীন।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যরা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে সহিংস হামলার পরিকল্পনা করতেন এবং পরে তাদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করতেন।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, লরেন্স বিষ্ণোই, গোল্ডি ব্রার এবং তাদের সহযোগীরা গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ার এক ভুক্তভোগীর কাছে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করেছিলেন।
এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় এক হাজার কেজি কোকেন, এক কেজি হেরোইন, ৪০ হাজার মার্কিন ডলার নগদ অর্থ এবং এক ডজন আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে।
এই যৌথ তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই, লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ, কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ অংশ নেয়।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম