ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টেসলা গাড়ি ২৫০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত রেডিওলজিস্ট চিকিৎসক ধর্মেশ প্যাটেলের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আদালত খারিজ করে দিয়েছে। দুই বছরের মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করার পর আদালত এ সিদ্ধান্ত দেয়।
সান মাটেও কাউন্টির এক বিচারক সোমবার মামলাটি খারিজ করেন। কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি স্টিভ ওয়াগস্টাফ জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী চিকিৎসা কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বিচারকের অভিযোগ খারিজ করা ছাড়া আর কোনো আইনি সুযোগ ছিল না।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি। ৪৫ বছর বয়সী ধর্মেশ প্যাটেল উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়ে থেকে তার টেসলা গাড়ি ২৫০ ফুট নিচে খাদে ফেলে দেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তান আহত হলেও অলৌকিকভাবে পরিবারের চারজনই প্রাণে বেঁচে যান।
এরপর তার বিরুদ্ধে স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়।
২০২৪ সালে আরেক বিচারক রায় দেন, প্যাটেলকে ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি না করে মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হবে। তার আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, ঘটনার সময় তিনি গুরুতর বিষণ্নতা ও বিভ্রমে (হ্যালুসিনেশন) ভুগছিলেন। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার মানসিক স্বাস্থ্য ডাইভারশন আইনের আওতায় তিনি চিকিৎসা পাওয়ার যোগ্য।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্যাটেল দুই বছর ধরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং একজন পারিবারিক থেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি স্টিভ ওয়াগস্টাফ বলেন, বর্তমান আইনে কেউ নির্ধারিত চিকিৎসা পরিকল্পনা সফলভাবে সম্পন্ন করলে দুই বছর পর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মুছে ফেলার সুযোগ রয়েছে।
তবে সান মাটেওর প্রসিকিউটররা শুরু থেকেই এই সুবিধার বিরোধিতা করেছিলেন। তাদের দাবি, হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধকে মানসিক স্বাস্থ্য ডাইভারশন কর্মসূচির আওতার বাইরে রাখা উচিত। এ জন্য তারা আইন সংশোধনের উদ্যোগও চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনার সময় প্যাটেল পরিবারের সঙ্গে বে এরিয়ায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে জানান, তিনি গভীর বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং বিভ্রমের কারণে বিশ্বাস করেছিলেন যে তার ৪ ও ৭ বছর বয়সী সন্তানদের অপহরণ করে পাচার করা হতে পারে।
গ্রেপ্তারের পর তিনি দীর্ঘদিন জামিন ছাড়া কারাগারে ছিলেন। পরে ২০২৪ সালে তাকে বহির্বিভাগে মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা সম্পন্ন করার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর তিনি সান মাটেও কাউন্টিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন এবং জিপিএস ট্র্যাকিং ব্রেসলেটের মাধ্যমে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট জমা দিতে হয় এবং প্রতি সপ্তাহে আদালতে রিপোর্ট করতে হতো।
পরে আদালত তাকে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর এবং তাদের নিয়ে গাড়িতে ভ্রমণেরও অনুমতি দেয়।
আদালতে প্যাটেলের স্ত্রী জানান, তিনি তার স্বামীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আর মামলা চালাতে চান না। তিনি বলেন, তাদের সন্তানরা বাবাকে খুব মিস করছিল এবং তাকে আবার পরিবারের কাছে ফিরে পেতে চেয়েছিল।
সোমবার অভিযোগ খারিজ হওয়ার পর আদালতকক্ষে অপেক্ষমাণ স্ত্রীর কাছে যান প্যাটেল। এরপর দুজন একসঙ্গে আদালত ভবন ত্যাগ করেন।
এদিকে, গ্রেপ্তারের কয়েক মাস পর ক্যালিফোর্নিয়া মেডিকেল বোর্ড হত্যাচেষ্টার অভিযোগের কারণে প্যাটেলকে চিকিৎসা পেশায় কাজ করা থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখে। বোর্ড জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরেই তিনি স্বেচ্ছায় তার ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসা লাইসেন্স জমা দিয়েছেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম