আমেরিকা

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) বহাল রেখে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি "অবিলম্বে" আবেদন করবেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের সাংবিধানিকভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বহাল রাখে। এর ফলে ট্রাম্পের সেই নির্বাহী আদেশ কার্যকর হয়নি, যার মাধ্যমে প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো এই নীতি সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, "এই বিচারিক ভুলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে এটি আমেরিকাকে ধ্বংস করে দেবে।" যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো মামলায় পরাজিত পক্ষ রায় ঘোষণার ২৫ দিনের মধ্যে পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারে। তবে এমন আবেদন খুব কমই গ্রহণ করা হয়। প্রায় ৬০ বছর আগে সর্বশেষ কোনো নিষ্পত্তি হওয়া মামলার পুনঃশুনানির অনুমতি দিয়েছিল আদালত। ৩০ জুন দেওয়া ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতার রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশু—তার বাবা-মা অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে দেশটিতে অবস্থান করলেও—সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে। এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। ট্রাম্প তার নির্বাহী আদেশে যুক্তি দিয়েছিলেন, অবৈধ অভিবাসী বা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশিদের সন্তানরা সংবিধানে উল্লেখিত "যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক এখতিয়ারের আওতাভুক্ত" নয়। তাই তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য নয়। সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন বিচারপতি, যার মধ্যে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসও রয়েছেন, মত দেন যে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর পরিপন্থী। বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানাও আলাদা মতামতে বলেন, এই আদেশ ফেডারেল আইনও লঙ্ঘন করে। রায় ঘোষণার পর ট্রাম্প জানান, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা তিনি চালিয়ে যাবেন। এজন্য তিনি কংগ্রেসে নতুন আইন পাসের উদ্যোগ নেবেন। ১৮৬৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেয়ে আসছে। সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই অধিকার নিশ্চিত করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের মাধ্যমে তা আরও শক্তিশালী হয়।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম