আমেরিকা

ডায়রিয়ার ঝুঁকিতে টাকো বেলের মেনু থেকে লেটুস বাদ

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন টাকো বেল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে তাদের মেনু থেকে লেটুস (আইসবার্গ লেটুস) সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, টাকো বেলের খাবার খাওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামে একটি পরজীবীজনিত সংক্রমণে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬৪৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এই রোগ সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে ছড়ায়। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) জানিয়েছে, গত ১৩ মে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৯৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এফডিএ সতর্ক করে জানিয়েছে, ইন্ডিয়ানা, কেনটাকি, মিশিগান, ওহাইও এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় টাকো বেলের যেসব খাবারে মেক্সিকো থেকে আনা কুচি করা আইসবার্গ লেটুস ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। টাকো বেল জানিয়েছে, তাদের এক সরবরাহকারীর কাছ থেকে আসা লেটুস অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে এবং বিকল্প সরবরাহকারীর লেটুস ব্যবহার করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দেশনা জারি না হলেও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও টাকো বেল কোন কোন অঙ্গরাজ্যে লেটুস সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে তা স্পষ্ট করেনি, তবে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে মিশিগানে, যেখানে ৩ হাজার ৩০০টিরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সংক্রমণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেটুসের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টেইলর ফার্মস, যার মেক্সিকোতে খামার রয়েছে। এফডিএর তদন্তেও মেক্সিকোর একটি লেটুস সরবরাহকারীকে সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে টেইলর ফার্মস জানিয়েছে, তারা স্বেচ্ছায় মধ্য মেক্সিকো থেকে সংগ্রহ করা সব আইসবার্গ লেটুস যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এফডিএর অনুসন্ধানে তাদের একটি স্বাধীন খামারকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইক্লোস্পোরিয়াসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এ রোগের সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে কয়েক দিন ধরে পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া এবং ক্ষুধামন্দা। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরজীবীর উৎস শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। তাদের ভাষায়, এটি যেন "খড়ের গাদায় সূচ খোঁজার চেয়েও কঠিন", কারণ এত ক্ষুদ্র পরজীবীর উৎস নির্ধারণে বিস্তৃত তদন্তের প্রয়োজন হয়।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম