আমেরিকা

অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে বেআইনি প্রতিশোধ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন: আদালত

  অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে বেআইনি প্রতিশোধ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন: আদালত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) কোম্পানি অ্যানথ্রপিককে ‘সরবরাহ শৃঙ্খল ঝুঁকি’ হিসেবে ঘোষণা করে বেআইনিভাবে পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে রায় দিয়েছেন এক মার্কিন বিচারক। বিচারকের মতে, কোম্পানিটির বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপ ছিল ‘বেআইনি ও ভিত্তিহীন’। অ্যানথ্রপিকের করা মামলায় মার্কিন জেলা বিচারক রিটা লিন এই রায় দেন। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে সরকারের সমালোচকদের শাস্তি দেওয়া বা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অবাধ ক্ষমতা সরকারের নেই। এআই স্টার্টআপ অ্যানথ্রপিক অভিযোগ করেছিল, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কোম্পানিটিকে ‘সরবরাহ শৃঙ্খল ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। সামরিক বাহিনীর নির্দিষ্ট কিছু কাজে অ্যানথ্রপিক তাদের এআই মডেল ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এসব কাজের মধ্যে নজরদারি এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থায় এআই ব্যবহারের বিষয়ও ছিল। আদালতের নথিতে বিচারক রিটা লিন বলেন, অ্যানথ্রপিককে বয়কট করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ব্যবসা করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়ে প্রতিরক্ষা দপ্তর বেআইনিভাবে কাজ করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে পেন্টাগন অ্যানথ্রপিককে ‘সরবরাহ শৃঙ্খল ঝুঁকি’ হিসেবে ঘোষণা করে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশি দেশের কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে এই ধরনের আইনি ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন কোম্পানিকে প্রকাশ্যে এভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অ্যানথ্রপিক তাদের মামলায় সরকারের পদক্ষেপকে ‘নজিরবিহীন ও বেআইনি’ বলে উল্লেখ করে। ক্লড এআই মডেলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তাদের এআই মডেলগুলো অস্ত্র ব্যবস্থায় নিরাপদভাবে ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নয়। এ ছাড়া নাগরিকদের অধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কায় অভ্যন্তরীণ নজরদারির কাজে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারেরও বিরোধিতা করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে পেন্টাগন সে সময় বলেছিল, কোনো বেসরকারি কোম্পানির সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম সীমিত করার ক্ষমতা থাকা উচিত নয়। এর আগে হোয়াইট হাউস অ্যানথ্রপিককে ‘উগ্র বামপন্থী’ ও ‘ওয়োক’ কোম্পানি হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছিল, প্রতিষ্ঠানটি সামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য ছিল, মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো এআই কোম্পানির সেবার শর্ত নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের অধীন। পেন্টাগন আরও দাবি করেছিল, নতুন চুক্তির শর্ত মানতে অ্যানথ্রপিকের অস্বীকৃতি কোম্পানিটি ভবিষ্যতে নিজেদের প্রযুক্তি নিয়ে কী পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অ্যানথ্রপিক বলেছে, সরকারের এই পদক্ষেপের কারণে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। মামলার আগের এক শুনানিতে বিচারক রিটা লিন মন্তব্য করেছিলেন, সরকার অ্যানথ্রপিককে কার্যত ‘পঙ্গু’ করে দিতে এবং সামরিক খাতে এআই ব্যবহারের বিষয়ে জনসাধারণের বিতর্ককে নিরুৎসাহিত করতে চাইছে। সে সময় বিচারক বলেন, ঘটনাটি প্রথম সংশোধনীর অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের একটি ‘চিরাচরিত উদাহরণ’ বলে মনে হচ্ছে। রায়ের পর অ্যানথ্রপিক আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। কোম্পানিটির এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূভাবে কাজ করতে আগ্রহী অ্যানথ্রপিক, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিক এই প্রযুক্তির সুবিধা পান। রায়ের বিষয়ে মন্তব্য জানতে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম