যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে দেশের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মার্কিন সরকারের খরচ হতে পারে প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
রিপাবলিকান পার্টির প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত মধ্য-মেয়াদি জাতীয় সম্মেলনে টেক্সাসের ডালাসে দেওয়া দীর্ঘ বক্তৃতায় ট্রাম্প এ প্রতিশ্রুতি দেন। তবে অর্থ কোথা থেকে আসবে, কীভাবে অর্থ বিতরণ করা হবে কিংবা এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হবে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ট্রাম্প তাঁর প্রস্তাবকে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুটিতেই জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়া হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, এই অর্থ যেন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই ব্যয় করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আপনারা টাকা খরচ করতে কানাডায় চলে যান। আমরা চাই না আপনারা চীন বা জার্মানিতে যান। আপনাদের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রেই ব্যয় করতে হবে।’
তবে কীভাবে এই অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি নিশ্চিত বা পর্যবেক্ষণ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক রয়েছেন। প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
প্রস্তাবটি নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাটরা একে ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে অর্থের উৎস এবং এত বড় অঙ্কের অর্থ বিতরণের আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে ডালাসের বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেননি, তিনি এ ধরনের অর্থ বিতরণের জন্য কংগ্রেসের কাছে অনুমোদন চাইবেন কি না।
নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে সরকারি অর্থ বা সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন ফেডারেল আইনে বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিটি নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে কিছু আইন বিশেষজ্ঞের মতে, ট্রাম্পের প্রস্তাবকে ভোট কেনার প্রচেষ্টা হিসেবে না দেখে কর কমানোর প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এটি বৈধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একজন নির্বাচনী আইন বিশেষজ্ঞ নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষাও ট্রাম্পের এই বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।
এ ধরনের অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। এর আগে তিনি শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্ব ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকদের ২ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
অন্য মার্কিন রাজনীতিকরাও অতীতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সরাসরি অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময় জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ২ হাজার ডলার করে ত্রাণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপের মধ্যেই ট্রাম্পের নতুন এই প্রতিশ্রুতি সামনে এলো। ইরান-সংক্রান্ত চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনে বাধার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতাও তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প বুধবার তাঁর সমর্থকদের সতর্ক করে বলেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের অবসান নাও হতে পারে এবং তেলের দামও ততদিন কমবে না। ডালাসের সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে ঠেকাতে স্বল্পমেয়াদে কিছু অর্থনৈতিক চাপ মেনে নেওয়া প্রয়োজন।