ইরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর প্রাণে বেঁচে ফেরা এক মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা প্রথমবারের মতো নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্যারাশুট নিয়ে মাটির দিকে পড়ে যাওয়ার সময় নিজেকে ‘মুক্তভাবে পড়ে যেতে’ দেখছিলেন। উদ্ধার হওয়ার পর সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তাকে ‘ব্রাভো’ নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বিমান থেকে বের হয়ে আসার পর একসময় ওপরে তাকিয়ে দেখেন, তার প্যারাশুট ঠিকমতো খুলছে না। ওই মুহূর্তটিকে তিনি জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
ব্রাভো বলেন, তখন কত দ্রুত নিচে পড়ে যাচ্ছেন, সেটি নিয়ে ভাবার সুযোগ ছিল না। বরং প্যারাশুটের সমস্যা ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন এবং ছড়িয়ে থাকা অংশগুলো টেনে খোলার চেষ্টা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত ঘণ্টায় প্রায় ৭০ থেকে ১০০ মাইল বেগে মাটিতে আঘাত করেন তিনি।
ভয়াবহ ওই পতনে তার মেরুদণ্ড, কাঁধ ও হাত ভেঙে যায়। তবুও ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কায় আহত অবস্থাতেই তিনি পাহাড়ি এলাকায় উঠে একটি উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছান। সেখানে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা শত্রুপক্ষের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় লুকিয়ে থাকার পর মার্কিন বিশেষ বাহিনী তাকে উদ্ধার করে।
ওই ঘটনায় আরও এক মার্কিন বিমানসেনা, যাকে ‘আলফা’ নামে শনাক্ত করা হয়েছে, বিমান থেকে বেরিয়ে আলাদা হয়ে যান। তাকে প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, আলফাকে উদ্ধারের সময় মার্কিন বাহিনীকে তীব্র গোলাগুলির মুখে পড়তে হয়েছিল।
সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, উদ্ধার অভিযানের সময় ইরানের ভেতরে ৯০ জনের বেশি মার্কিন সেনা অবস্থান করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৪৬ বছরের মধ্যে সেটিই ছিল ইরানের ভেতরে মার্কিন বাহিনীর প্রথম বড় ধরনের সামরিক অভিযান।
তবে উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত কয়েকটি বিমান ও হেলিকপ্টার মরুভূমির বালিতে আটকে যায়। পরে সেগুলো ধ্বংস করে দিতে হয়, যাতে সামরিক প্রযুক্তি ইরানের হাতে না যায়। সিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া দুটি মার্কিন বিমানের প্রতিটির মূল্য ছিল প্রায় ১০ কোটি ডলার। এছাড়া কয়েকটি ‘লিটল বার্ড’ হেলিকপ্টারও ধ্বংস করা হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি ডলার মূল্যের দুই আসনের এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি কাঁধ থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রটির আনুমানিক মূল্য ছিল ১ লাখ ডলার।
ব্রাভো তার বেঁচে যাওয়াকে ‘অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, পুরো সময়টিতে ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার ভয় ছিল।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ এখন সপ্তম মাসে পড়েছে। যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং এর প্রভাবে অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে পূর্বাভাস দিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত যুদ্ধ চলতে পারে।