ওয়াশিংটন ডিসির রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরে বুধবার রাতে প্রায় ২০ মিনিটের জন্য ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, সক্রিয় রানওয়ের ওপর একটি ড্রোন উড়তে দেখার পর দুই পাইলট বিষয়টি নিয়ন্ত্রণকক্ষকে জানান।
তুলসা থেকে আসা আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি আঞ্চলিক উড়োজাহাজ অবতরণের সময় পাইলট নিয়ন্ত্রণকক্ষকে জানান, রানওয়ের প্রায় মাঝামাঝি অংশের ওপর দিয়ে তিনি একটি ড্রোন বা এ ধরনের কিছু উড়ে যেতে দেখেছেন। নিউ জার্সির উদ্দেশে উড্ডয়নের অপেক্ষায় থাকা একটি চার্টার বিমানের পাইলটও জানান, তিনিও এমন একটি আলো দেখেছেন, যা ড্রোন হতে পারে বলে তার মনে হয়েছে।
এরপর বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার অন্য পাইলটদের সতর্ক করে জানান, রিগ্যান বিমানবন্দরের আশপাশে অনুমোদনহীন ড্রোন বা মানববিহীন আকাশযানের কার্যক্রমের খবর পাওয়া গেছে। ড্রোনটির ধরন ও রং সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। সতর্কতার অংশ হিসেবে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
বিমানবন্দরের কর্মীরা ড্রোনটির সন্ধানে তল্লাশি চালালেও সেটি খুঁজে পাননি। এফএএ জানিয়েছে, ঘটনাটি স্থানীয় ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানোর ঘটনা এফবিআই তদন্ত করে। এ ধরনের ঘটনায় ফেডারেল আইনে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
ওয়াশিংটন ডিসির বিস্তীর্ণ আকাশসীমার অনেক অংশেই মানববিহীন উড়োজাহাজ ওড়ানো নিষিদ্ধ। রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দর হোয়াইট হাউস ও ক্যাপিটল ভবন থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে এবং পেন্টাগনের পাশেই অবস্থিত। বিমানবন্দরের আশপাশের আকাশসীমাতেও ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ, কারণ উড়োজাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে যাত্রীদের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দরেই একটি মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের সঙ্গে আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি আঞ্চলিক উড়োজাহাজের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত হন, যা দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের তদন্তে ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রিগ্যান বিমানবন্দরে ১৫ হাজার ২১৪টি ‘নিয়ার মিস’ ঘটনা শনাক্ত হয়। এসব ঘটনায় দুটি উড়োজাহাজ একে অপরের এক নটিক্যাল মাইলের মধ্যে চলে এসেছিল এবং তাদের উল্লম্ব দূরত্ব ছিল ৪০০ ফুটের কম।
মাত্র ৮৬০ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর একটি। এর প্রধান রানওয়েটিকে দেশটির সবচেয়ে ব্যস্ত রানওয়ে হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে প্রতিদিন ৮০০টিরও বেশি উড্ডয়ন ও অবতরণ হয়।