আমেরিকা

১১০ বিলিয়ন ডলারের প্যারামাউন্ট-ওয়ার্নার ব্রাদার্স একীভূতকরণ, ১২ অঙ্গরাজ্যের মামলার নিষ্পত্তি

যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজন অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে আইনি বিরোধের নিষ্পত্তি করেছে প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স। এর ফলে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির সঙ্গে কোম্পানিটির প্রায় ১১০ বিলিয়ন ডলারের একীভূত হওয়ার পথ আরও পরিষ্কার হয়েছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে হলিউডের অন্যতম বড় এই দুই প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণে বিনোদন ও গণমাধ্যম শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সমঝোতা অনুযায়ী, প্যারামাউন্টকে প্রতি বছর অন্তত ৩০টি সিনেমা তৈরি করতে হবে। এর পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিমাণ সিনেমা যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণের বাধ্যবাধকতাও থাকবে। এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে কোম্পানিকে ব্যবসার কিছু অংশ বিক্রি করে দেওয়ার মতো শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সিবিএস নিউজ ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির মালিকানাধীন সিএনএনের জন্য একটি ‘নিউজ এডিটোরিয়াল ইন্ডিপেনডেন্স বোর্ড’ গঠন। একীভূতকরণ সম্পন্ন হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে এই বোর্ড গঠন করতে হবে। এতে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা পাঁচজন কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিক থাকবেন। এই বোর্ডের দায়িত্ব হবে সিবিএস নিউজ ও সিএনএনের সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্যবস্থাপনার মধ্যে প্রতিবেদনের পক্ষপাত বা নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো বিরোধ তৈরি হলে তা পর্যালোচনা করা। চুক্তিতে বলা হয়েছে, বোর্ডের লক্ষ্য হবে স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা বলেছেন, এই সমঝোতা একীভূতকরণের প্রতি সমর্থনের অর্থ নয়। তবে তার মতে, চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। প্যারামাউন্টের প্রধান নির্বাহী ডেভিড এলিসনও সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এদিকে রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা বা ডব্লিউজিএ এখনো মনে করছে, এই একীভূতকরণ লেখক ও পুরো বিনোদন শিল্পের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। সংগঠনটি জানিয়েছে, সরকারি সহায়তা ছাড়া একা এই একীভূতকরণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা তাদের ছিল না। সমঝোতার অংশ হিসেবে প্যারামাউন্টকে ডব্লিউজিএর স্বাস্থ্য তহবিলে ১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার দিতে হবে এবং আইনি খরচ বহন করতে হবে। পাশাপাশি সিবিএস নিউজ ব্রডকাস্টে পাঁচ বছর পর্যন্ত লেখকদের ছাঁটাই নিষিদ্ধ থাকবে। সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রেও থাকছে নির্দিষ্ট শর্ত। প্রথম দুই বছরে প্যারামাউন্টের মোট চলচ্চিত্র নির্মাণের অন্তত ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে করতে হবে। পরবর্তী তিন বছরে এই হার আরও বাড়িয়ে ৩০ শতাংশের বেশি করতে হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে চেয়েছেন, বছরে ৩০টি সিনেমার লক্ষ্য পূরণ করতে যেন স্বল্প বাজেটের বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি নিম্নমানের কনটেন্ট ব্যবহার করা না হয়। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্যারামাউন্টের মিরাম্যাক্সে থাকা ৪৯ শতাংশ মালিকানা বিক্রি করে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। চলচ্চিত্র সম্পাদক নেড থর্নি এই একীভূতকরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দুটি বড় কোম্পানি একীভূত হলে খরচ কমানোর উদ্যোগ থেকে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তার মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্তের সুফল সাধারণ কর্মীদের চেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারদের কাছে বেশি যেতে পারে—এমন প্রশ্নও রয়েছে। একীভূত কোম্পানির কার্যক্রম তদারক করতে একজন স্বাধীন মনিটর নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সমঝোতার শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়ার নেতৃত্বে অ্যারিজোনা, কলোরাডো ও নিউ জার্সিসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এই আইনি উদ্যোগে যুক্ত ছিল। সমঝোতার পর একীভূতকরণের অন্যতম বড় আইনি বাধা দূর হয়েছে বলে প্যারামাউন্ট জানিয়েছে। তবে কোম্পানির সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়াতেই থাকবে—এমন কোনো প্রতিশ্রুতি আইনি চুক্তিতে রাখা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন বোন্টা। এর আগে এলিসন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আপাতত ক্যালিফোর্নিয়াতেই সদর দপ্তর রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বোন্টার হিসাব অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নির্মাণ খাতে অতিরিক্ত ৩০ কোটি থেকে ১৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি হতে পারে। আর কংগ্রেস যদি ফেডারেল চলচ্চিত্র কর-সুবিধা অনুমোদন করে, তাহলে এই উৎপাদন কার্যক্রম আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে।