আমেরিকা

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এআই নিয়ে নতুন যোগাযোগ চ্যানেল চালুর ঘোষণা

চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত যোগাযোগের জন্য একটি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ চ্যানেল চালু করতে সম্মত হয়েছে। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস এ তথ্য জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশ ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই নিয়ে একটি নতুন সংলাপও প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মাধ্যমে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুবিধা নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা মতবিনিময় করবেন। এই সংলাপের পরবর্তী বৈঠক ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে হওয়ার কথা রয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। দ্রুত উন্নতিশীল এআই প্রযুক্তি জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। তাই দুই দেশের মধ্যে কোনো এআই-সংক্রান্ত গুরুতর ঘটনা ঘটলে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। এর আগে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও এআই-সংক্রান্ত গুরুতর ঘটনার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে একটি নোটিফিকেশন ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বৈঠকে এআই প্রযুক্তি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও দুই নেতার বক্তব্যে পার্থক্য দেখা যায়। ট্রাম্প এআই ও সুপার ইন্টেলিজেন্স নিয়ে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে শি জিনপিং বলেছেন, এআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই থাকা উচিত। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই দেশ এখন থেকে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটির পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট উদীয়মান প্রযুক্তিগুলো বোঝাতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহার করবে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন এসআই ডায়ালগ ঝুঁকি ও সম্ভাব্য সুবিধা নিয়ে আলোচনা করবে। তবে এআই নিয়ে এই নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা দুই দেশের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা বন্ধ করার কোনো চুক্তি নয়। বরং কোনো গুরুতর এআই-সংক্রান্ত ঘটনা বা ঝুঁকি দেখা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য এটি একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক বৈঠকে এআইয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দুই নেতা চলতি বছরের শেষ দিকে আরও দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আবারও বৈঠক করবেন—নভেম্বরে চীনে এপেক সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ সম্মেলনে।