যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সাম্প্রতিক এক নিরাপত্তা ঘটনায় ‘বিদেশি পক্ষের হাত’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর নাম বলেননি এবং নিজের দাবির পক্ষে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করেননি।
গ্লুচেস্টারশায়ারের ফেয়ারফোর্ডে মার্কিন সামরিক বাহিনীও ব্যবহার করে এমন এই বিমানঘাঁটির কাছে রোববার ভোরে তিনটি সন্দেহজনক গাড়ি দেখা যাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালায়। এ ঘটনায় পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে তদন্ত শুরু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার পাঁচজনই লন্ডনের বাসিন্দা এবং তাদের বয়স ২০-এর কোঠায়। বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের পর সোমবার তাদের পুলিশি জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়নি। কঠোর কিছু শর্তে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তকারীরা একাধিক সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছেন।
ব্রিটিশ কাউন্টার টেররিজম পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে এমন সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কাজ করে থাকতে পারেন। তবে পুলিশ এখনো কোনো নির্দিষ্ট দেশকে দায়ী করেনি এবং তদন্তে ‘খোলা মন’ রেখে সব সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে রুবিও ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘটনাটিকে ‘খুবই গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এতে ‘বিদেশি পক্ষের হাত’ স্পষ্টভাবে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে তিনি রাজি হননি। তিনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতারও প্রশংসা করেন।
রুবিও সাক্ষাৎকারে ইরানের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, দেশটি বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্বার্থে হামলার হুমকি দিয়েছে। তবে তিনি সরাসরি বলেননি যে ফেয়ারফোর্ডের ঘটনার সঙ্গে ইরান জড়িত। লন্ডনে ইরানি দূতাবাসও এ ঘটনায় তেহরানের সংশ্লিষ্টতার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ঘটনার পর আশপাশের প্রায় ৮৫টি পরিবারের বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে তারা বাড়িতে ফিরতে পারেন। সন্দেহজনক গাড়িগুলো পরীক্ষা করতে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও বিশেষজ্ঞরা কাজ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাড়িগুলোতে কার্যকর বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে।