মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন ফেডারেল কর্মকর্তারা। সোমবার, ১২ অক্টোবর এ ঘটনা ঘটে। অভিবাসনসংক্রান্ত একটি চলমান ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে এ তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্তের বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ করেনি দেশটির বিচার বিভাগ।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) কর্মকর্তারা এ তল্লাশি চালান। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন একটি তদন্তকারী শাখা। বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আদালতের অনুমোদন নিয়ে তল্লাশির পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। তবে তদন্তের প্রকৃতি বা সম্ভাব্য অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইলহান ওমরের কার্যালয় এ ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করতে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করছে। কার্যালয়টি তল্লাশিকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক হয়রানির নতুন পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তল্লাশির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন ওমর। তিনি বলেছেন, তিনি ভালো আছেন এবং তাঁকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না। তাঁর অভিযোগ, গত এক দশক ধরে ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক তল্লাশিকে তিনি সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করছেন।
প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তদন্তটি ওমরের পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাঁর শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় জমা দেওয়া কাগজপত্র নিয়ে সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে তদন্তকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। এ ঘটনায় ওমরের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
সাবেক অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এর আগে ওমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান মার্কওয়েইন মুলিন গত মাসে একটি চলমান তদন্তের কথা উল্লেখ করেছিলেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এর আগে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি এবং ওমর বরাবরই অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তল্লাশির সময় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনে মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ওমর। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে একজন নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্যের বাড়িতে এ ধরনের তল্লাশি চালানোয় ডেমোক্র্যাট নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিসসহ শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতারা যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তল্লাশিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে স্বীকার করা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তল্লাশির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং বিষয়টি বিচার বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত। একই সঙ্গে তিনি ওমরের সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
১৯৮২ সালে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে জন্ম নেওয়া ইলহান ওমর শৈশবে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ২০১৮ সালে প্রথমবার প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন তিনি। মিনিয়াপোলিসসহ মিনেসোটার একটি এলাকা তাঁর নির্বাচনী জেলার অন্তর্ভুক্ত। তিনি ডেমোক্র্যাট দলের প্রগতিশীল আইনপ্রণেতাদের পরিচিত গোষ্ঠী ‘দ্য স্কোয়াড’-এর অন্যতম সদস্য এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
তল্লাশির পর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিচার বিভাগ তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ না করায় অভিযোগের প্রকৃতি ও এর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।