আমেরিকা

ওরেগনের স্কুলে কিশোরের গু লি বর্ষণ, বন্দুক কেড়ে নিতে শিক্ষিকার লড়াই, বাবার পাল্টা আঘাতে হামলাকারী নি হ ত

ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে ভয়াবহ গু লি র ঘটনায় তিন শিশু ও এক শিক্ষকের মৃ ত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্কুলে ঢুকে এলোপাতাড়ি গু লি চালায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। তাকে থামাতে শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই বন্দুক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এক শিক্ষিকা। পরে নিজের দুই মেয়ে ওই স্কুলে পড়ায় সেখানে ছুটে যাওয়া এক বাবা বন্দুকধারীকে একাধিকবার গু লি করেন। এতে হামলাকারীর মৃ ত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নাম প্রকাশ না করা ওই শিক্ষিকা প্রথমে নিজের মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলে কিশোরটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে তাকে ধরে রেখে বন্দুক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে হামলাকারীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পুলিশ প্রধান মাইক ক্রান্টজ বলেন, শিক্ষিকার সাহসী পদক্ষেপ আরও প্রাণহানি ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ওই শিক্ষিকা নিজে আহত হননি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ ১৫টি গু লি ছোড়ে। তাকে থামানোর সময় তার কাছে শটগানের আরও প্রায় ৪৪টি কার্তুজ ছিল। হামলার উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ নিহত চারজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় প্রকাশ করে। তারা হলো পাঁচ বছর বয়সী রোয়াম সামার এবং ২৫ বছর বয়সী শিক্ষিকা মেগান ল্যামবার্ট। ল্যামবার্টের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে স্কুল জেলায় তিনি বড় হয়েছেন, সেখানেই শিক্ষক হওয়া ছিল তার স্বপ্ন। পরিবারের ভাষায়, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহানুভূতিশীল এবং উদার মনের মানুষ। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন তিনি। নিহত শিশু সামারের নানা ব্রায়ান জলি বলেন, নাতির মৃ ত্যুতে তাদের পরিবার বিধ্বস্ত। তিনি জানান, শিশুটি ছিল অত্যন্ত মেধাবী, দুষ্টুমিপ্রিয়, প্রাণবন্ত এবং নির্ভীক। নিহত অন্য দুই শিক্ষার্থীর বয়স ছিল আট ও ১১ বছর। তাদের পরিবারের অনুরোধে আপাতত নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৫৪ বছর বয়সী আরেক শিক্ষিকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর অবস্থাও গুরুতর, তবে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন কিশোর গ্রিফিন জে জন দ্বিতীয় একসময় ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল এবং বিশেষ শিক্ষাসহায়তার আওতায় পড়াশোনা করত। তদন্তকারীদের ধারণা, সে হেঁটে স্কুলে এসেছিল। কীভাবে সে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেছিল এবং স্কুলে আসার আগে কোথায় কোথায় গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। হামলাকারীকে থামানো বাবার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি হলেন ৩৬ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি কেলুব জিয়ামাঙ্কো। তার ভাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলটির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় হামলাকারীকে স্কুলের বাইরে একটি গাড়ির দিকে গু লি চালাতে দেখেন। পরে জানালা দিয়ে গু লি করে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখে তিনি এগিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাবার গাড়িতে বৈধভাবে বহন করা একটি .৪০ ক্যালিবারের পিস্তল ছিল। সেটি নিয়ে তিনি স্কুলে প্রবেশ করেন এবং হামলাকারীকে একাধিকবার গু লি করেন। ঘটনাস্থলেই কিশোরটির মৃ ত্যু হয়। তার মা কেন্ডা ফ্রিম্যান জানান, ঘটনার পরপরই ছেলে তাকে ফোন করেছিল। ফোনে সে জানায়, একজন ব্যক্তি তার মেয়ের স্কুলে ঢুকে শিশুদের গু লি করেছে এবং সে নিজেই হামলাকারীকে গু লি করে থামিয়েছে। মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তার ছেলে তখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। ফ্রিম্যান বলেন, তিনি ছেলেকে জানিয়েছেন যে সে অনেকের প্রাণ বাঁচিয়েছে। জবাবে ছেলে বলেছিল, “মা, আমি সবাইকে বাঁচাতে পারিনি।” যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ওই বাবার সাহসিকতার প্রশংসা করে তাকে ‘মহান বীর’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি সময়মতো এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। ওরেগনের গভর্নর টিনা কোটেকও তার পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তবে তিনি বলেন, এমন অভিজ্ঞতা মানুষের ওপর গভীর মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। এই কঠিন সময়ে ওই ব্যক্তি ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। বেন্ড পুলিশ প্রধান মাইক ক্রান্টজ বলেন, শিক্ষিকা ও ওই বাবার সাহসী পদক্ষেপ আরও প্রাণহানি ঠেকাতে সাহায্য করেছে। তদন্তকারীরা এখনো হামলার উদ্দেশ্য এবং আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।