লস এঞ্জেলেস

ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ আন্দোলনে সরব ক্যালিফোর্নিয়া, ভোটারদের আগেভাগে ভোট দিতে আহ্বান

ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি। শনিবার, ১৭ অক্টোবর, লস এঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, পদযাত্রা ও জনসচেতনতামূলক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভোটারদের আগাম ভোট দিতে উৎসাহিত করেছেন আন্দোলনকারীরা। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এবারের কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য। লস এঞ্জেলেসের ডাউনটাউনে গ্লোরিয়া মোলিনা গ্র্যান্ড পার্কে দুপুরের দিকে কয়েক শ মানুষ জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল ‘নো কিংস’ লেখা প্ল্যাকার্ড এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি-সংবলিত বিভিন্ন পোস্টার। রোদ ও গরমের মধ্যে অনেকে পার্কের ছায়ায় অবস্থান নেন। পরে সেখানে বক্তব্য দেওয়ার পর শহরের বিভিন্ন সড়ক ধরে পদযাত্রার পরিকল্পনা করা হয়। এবারের কর্মসূচির বিশেষত্ব হলো, আগের বিক্ষোভগুলোর তুলনায় এবার সরাসরি ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীরা চান, যোগ্য ভোটাররা যেন নির্বাচনের জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নেন, ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন এবং নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিকল্পনা করেন। ‘নো কিংস’ জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের গণজমায়েত ও প্রতিবাদের পর এবার জনগণের অংশগ্রহণকে ভোটের মাধ্যমে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের লক্ষ্য, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ মানুষের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। কর্মসূচিটি দলনিরপেক্ষ ভোটার অংশগ্রহণের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রচার চালানোর পরিবর্তে যোগ্য ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করাই এর উদ্দেশ্য। ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে লস এঞ্জেলেস ও অরেঞ্জ কাউন্টিসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সমাবেশ ও পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। কোথাও ছোট পরিসরে প্রতিবাদ, কোথাও স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, আবার কোথাও ভোটকেন্দ্র ও ব্যালট জমা দেওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ম্যানহাটন বিচ ও হারমোসা বিচের মধ্যবর্তী বোর্ডওয়াকেও প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারী পদযাত্রায় অংশ নেন। তাদের স্লোগান ছিল ভোট দেওয়ার পক্ষে। ক্যালিফোর্নিয়ার বাইরেও একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ‘নো কিংস: ভোট আর্লি’ কর্মসূচি পালিত হয়। আন্দোলনকারীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন, ব্যালট সম্পর্কে তথ্য, আগাম ভোটের সুযোগ এবং ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে মানুষকে সহায়তা করা হচ্ছে। ‘নো কিংস’ আন্দোলন গত এক বছরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি, অভিবাসন ও সীমান্ত কার্যক্রম, ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে। তবে এবারের আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্বাচনে নাগরিকদের অংশগ্রহণ। আয়োজকদের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামত প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো ভোট। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগেভাগেই ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করা, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা এবং ব্যালট জমা দেওয়ার সুযোগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। এদিকে লস এঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শহরের কিছু এলাকায় অনুমতিবিহীন কর্মসূচির কারণে যান চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে নির্দিষ্ট কয়েকটি সড়কে চলাচলের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, এবারের ‘নো কিংস’ কর্মসূচিতে রাস্তায় প্রতিবাদের পাশাপাশি নির্বাচনী অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই উদ্যোগ ভোটারদের কতটা সক্রিয় করতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়।