যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অন্তত ৯ জন ফেডারেল আইনপ্রণেতা রহস্যময় চিঠির মাধ্যমে হুমকির লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। চিঠিগুলোর ভেতরে সাদা গুঁড়ার মতো সন্দেহজনক পদার্থ পাওয়া গেছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দপ্তরেও একই ধরনের চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এসব ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
প্রাথমিক পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত চিঠিতে পাওয়া পদার্থ বিপজ্জনক নয় বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে এবং চিঠিগুলোর উৎস শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। কোথাও কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও সন্দেহজনক চিঠি খোলার পরপরই কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার যেসব আইনপ্রণেতার দপ্তরে এমন চিঠি পৌঁছেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যালেক্স প্যাডিলা এবং প্রতিনিধি গিল সিসনেরোস, জিমি প্যানেটা, অ্যামি বেরা, জো লোফগ্রেন, জশ হার্ডার ও ডরিস মাতসুই। রিপাবলিকান প্রতিনিধি কেভিন কাইলির দপ্তরেও সন্দেহজনক চিঠি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মার্ক ডেসলনিয়ারসহ আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতার দপ্তরে একই ধরনের চিঠি পৌঁছানোর খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিনিধি কেভিন কাইলির রকলিনের দপ্তরে আসা একটি খাম কর্মীদের একজন খুলেছিলেন। ভেতরে সন্দেহজনক গুঁড়া দেখতে পেয়ে তিনি সেটি বিশেষভাবে তৈরি একটি নিরাপদ আবদ্ধ স্থানে রাখেন। পরে বিপজ্জনক পদার্থ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দপ্তরটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, প্রতিনিধি জিমি প্যানেটার সান্তা ক্রুজের দপ্তরেও সাদা গুঁড়াযুক্ত একটি খাম পৌঁছায়। একজন কর্মী সেটি খোলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দপ্তর খালি করা হয়। পরে চিকিৎসাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরীক্ষা করে তাঁদের নিরাপদ বলে নিশ্চিত করেন। একই ধরনের চিঠি পাওয়ার পর প্রতিনিধি জশ হার্ডারের স্টকটনের দপ্তর এবং অ্যামি বেরার স্যাক্রামেন্টোর দপ্তরেও নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার বাইরে টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ এবং মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচারের দপ্তরেও সন্দেহজনক চিঠি পাঠানো হয়েছে। ক্রুজের হিউস্টনের দপ্তরে চিঠি পৌঁছানোর পর নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে লকডাউন জারি করা হয়। অন্যদিকে, ডাককর্মীরা ক্লোবুচারের দপ্তরে পাঠানো চিঠিটি পৌঁছানোর আগেই আটকে দেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৬টি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী দপ্তরেও সন্দেহজনক প্যাকেট পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার সবগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তকারীরা চিঠির উৎস, পাঠানোর উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন।
ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনপ্রণেতারা। কেভিন কাইলি বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা কমিয়ে সৌজন্য ও সাধারণ বোধবুদ্ধির চর্চায় ফিরে যাওয়া জরুরি। জিমি প্যানেটাও সরকারি দায়িত্ব পালনকারীদের বিরুদ্ধে হুমকি ও ভয় দেখানোর ঘটনাকে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছেন।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সংগঠনগুলোও এসব হুমকির নিন্দা জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সময় কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকা উচিত নয়।
এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের আগে নির্বাচনী দপ্তর ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সন্দেহজনক পদার্থযুক্ত চিঠি পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী দপ্তরে পাঠানো সাদা গুঁড়াযুক্ত চিঠির কিছু নমুনায় ফেন্টানিলের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। সে কারণে এবারের চিঠিগুলোর পদার্থ প্রাথমিকভাবে বিপজ্জনক বলে মনে না হলেও কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তদন্তকারীরা নতুন চিঠি পৌঁছানোর আগেই সেগুলো শনাক্ত ও আটকানোর চেষ্টা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার পেছনে দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে শনাক্ত করার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি।