বাংলাদেশ

আগামী ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার, থাকবে না বিএনপি

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমার ধারণা, আগামী ২০ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে।

বুধবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বিএনপি কিংবা সুশীলসমাজের কোনো প্রতিনিধি থাকার সুযোগ নাই। কারণ, সংসদে তাদের কোনো প্রতিনিধি নাই। সংবিধান অনুযায়ী সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়েই নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলতে কিছুই নাই। এটা হবে নির্বাচনকালীন সরকার। আমার ধারণা, ২৫ সেপ্টেম্বরের আগেই এটা হবে। এ সরকার কত সদস্যের হবে সেটা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে সরকারের আকার খুব একটা পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না।

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির থাকার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, বর্তমান সংসদে তাদের কোনো প্রতিনিধি নেই। নির্বাচনকালীন সরকারে সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদেরও থাকার সুযোগ নেই। কারণ, ওই সরকারে নির্বাচিতরাই থাকবেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে ২৭ ডিসেম্বর একটি তারিখ প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করেছে, শুনেছি। কারণ, এ সময় বড়দিন, বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারিসহ বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান থাকে। তাই ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচন হলে আইন অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের ২৫, ২৬ তারিখে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে।

নির্বাচনের আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, সংসদ ভাঙা হবে না। সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে সংবিধানে কোনো সুযোগ নেই। সংসদ ভাঙবে নির্বাচনের অনেক পরে। পরবর্তী সংসদ গঠন হলে তখনই সংসদ ভাঙবে। তার মানে, আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এ সংসদের জীবন আছে।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ডিসেম্বর মাসে নির্বাচনের জন্য দিন পাওয়া কঠিন। তবে নির্বাচন কমিশন ২৭ ডিসেম্বর ঠিক করেছে। সম্ভবত ২৭ তারিখই নির্বাচন হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়েছে। আশা করছি, জাতীয় সংসদের নির্বাচনও অত্যন্ত সুষ্ঠু ও  প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হবে। আর এ নির্বাচনে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে।

অর্থমন্ত্রী বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে বলেন, তিনি অনেক কথাই বলছেন। আসলে তারাও ভালো করে জানেন, এবার যদি তারা নির্বাচনে অংশ না নেন, তাহলে তাদের দল বিলীন হয়ে যাবে, কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। কাজেই বিএনপিসহ অন্য সব দলই নির্বাচনে অংশ নেবে বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, নির্বাচন পদ্ধতিতে গত ২০০৪/২০০৫ সালে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এখন ভোট চুরি করা অত সহজ নয়। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমিও সম্পৃক্ত ছিলাম বলেই দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি হবে না। ভোটাররা ভোট প্রয়োগ করে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে।

অর্থমন্ত্রী সিলেটের উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আপনাদেরকে জনগণ ভোট দিয়েছে তাদের সেবার জন্য। এখানে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করার কথা নয়।

অর্থমন্ত্রী সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে আগামী অক্টোবরে সিলেট সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠক করারও ঘোষণা দেন।

প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের মৃত্যু দিবস সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চাইলে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সাইফুর রহমান অনেক দিন দেশের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। তার আগে বাণিজ্যমন্ত্রীও ছিলেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেক ভূমিকা রেখে রেখে গেছেন। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।