বাংলাদেশ

খালেদাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার : জয়নুল আবেদীন

কারা অভ্যন্তরে ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে সাজা দেয়ার জন্যই বে আইনীভাবে অস্থায়ী আদালত গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

তিনি বলেন, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ‘খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ অবস্থায় কারা অভ্যন্তরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে তিনি কারাগারের ভেতর যেকোনও দুর্ঘটনার সম্মুখিন হতে পারেন।’

বৃহস্পতিবার (০৬সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী আদালত স্থাপনের প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

জয়নুল আবেদীন বলেন, সাধারণ জনগণ যাতে বিচারের নামে সরকারের বে আইনী কার্যক্রম দেখতে বা বুঝতে সক্ষম না হয় সে জন্য বকশীবাজার আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতের পরিবর্তে ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বেগম জিয়ার মামলা শুনানীর জন্য অস্থায়ী আদালত স্থাপন করা হয়েছে। ‘আমরা এক প্রজ্ঞাপনে দেখলাম আদালত স্থানান্তরের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে এই মামলার বিচার কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে বিধায় নিরাপত্তাজনিত কারণে আদালত কারাগারের ভিতরে স্থানান্তর করা হয়েছে।’

সংবিধানের আর্টিক্যাল ৩৫(৩) এবং ফৌজদারী কার্যবিধি ৩৫২ ধারা উল্লেখ করে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘সেখানে আদালত বলতে একটি উন্মুক্ত আদালতের কথা বলা হয়েছে; যেখানে যে কোনো মানুষের সাধারণভাবে প্রবেশাধিকার থাকে। কিন্তু ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের যে ৭নং কক্ষটিকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে তা সংবিধানের আর্টিক্যাল ৩৫(৩) এবং ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৫২ ধারা অনুযায়ী কোনো উন্মুক্ত আদালত নয় বা হতে পারে না।’ ‘সেখানে পাবলিক তো দূরের কথা বেগম খালেদা জিয়া ও অন্যান্য আসামিদের আইনজীবী, আসামিদের আত্মীয়-স্বজন কিংবা খালেদা জিয়ার দলীয় নেতা-নেত্রীদের প্রবেশ এবং আদালতের কার্যক্রম দেখা বা শোনার কোনো সুযোগ নাই।’

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আরো বলেন, আমরা যেটুকু শুনতে পেয়েছি যে, আদালত কক্ষটি ২৪ ফুট বাই ২৬ ফুট আয়তনের। নাটক-সিনেমায় যে রকম দেখানো হয়; সেই আকৃতির একটি আদালত কক্ষ বসানো হয়েছে যেটি একটি গুহার মতো স্যাঁতস্যাঁতে এবং সেখানে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসও নেয়ার ব্যবস্থা নেই। ‘ফলে কারা অভ্যন্তরে গঠিত আদালতটি মোটেই উন্মুক্ত আদালত না হওয়ায় এবং সেখানে পাবলিক ট্রায়াল হওয়ার কোন সুযোগ না থাকায় এইরূপ বে আইনী আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার বিচার কার্যক্রম চলার আইনগত কোন সুযোগ নেই।’

এই সংবাদ সম্মেলনের পর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে দুটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সারাদেশের আইনজীবী সমিতিতে মানববন্ধন ও আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রতীকী অনশন পালনের আহবান জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও গোলাম রহমান ভূঁইয়া, নিতাই রায় চৌধুরী, সানাউল্লাহ্ মিয়া, বদরুদ্দোজা বাদল প্রমুখ।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি