বাংলাদেশ

‘আমাদের কাজের ব্যবস্থা করে দিয়ে লকডাউন চালু রাখুক’

করোনা সংক্রমণ রোধে দেশে চলছে সর্বাত্মক লকডাউন। ফলে জরুরি সেবা ছাড়া বন্ধ রয়েছে সবকিছু। এতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষেরা। শ্রম বিক্রি করে দু-মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকা মানুষেরা চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন। তাদের আয়ের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন কী করবেন ভেবে কূল পাচ্ছেন না।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বুড়িগঙ্গার তীরে নৌপথে বালু, সিমেন্ট, কয়লা ও পাথর নিয়ে ঘাটে ভিড়ে শত শত জাহাজ। কিন্তু করোনায় লকডাউন শুরু হওয়ায় এখন আর জাহাজ আসছে না। নৌপথ খোলা থাকলেও মালামাল আনছেন না ঘাট মালিকরা। আর এতেই কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত শ্রমিক।

শ্রমিকরা বলছেন, বিধিনিষেধের কারণে তাদের কাজ বন্ধ। হঠাৎ কাজ বন্ধের কারণে আয়ও বন্ধ। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে তাদের।

জাহাজ থেকে সিমেন্টের বস্তা তোলার কাজ করেন মাকসুদ মিয়া। অন্য সময় দিনে আয় করতেন সাত থেকে আটশ টাকা। লকডাউনে আগের মতো কাজ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘লকডাউনের আগে কাজ চলছিল। ডিলাররা মাল (সিমেন্ট) কিনতেন। ফলে আমাদের কাজ থাকতো। এখন ডিলাররা মাল (সিমেন্ট) নেয় না। আমাদেরও কাজ নেই। আগে সকাল ছয়টা থেকে কাজ শুরু হতো। দুই দিন পর আজ কাজ করলাম। সেটাও আবার সকাল আটটার দিকে শুরু হয়ে বেলা একটার আগেই শেষ।’

মাকসুদ বলেন, ‘আগে জাহাজ থেকে প্রতি বস্তা সিমেন্ট ঘাটে উঠালে পেতাম চার টাকা। এখন ঘাটে জাহাজ নেই। সকালে একটা আসছে। এটা কবে ঘাটে মাল (সিমেন্ট) ‍উঠাবে জানি না। আজ গাড়িতে প্রতিবস্তা সিমেন্টা উঠানোর কাজ করলাম। গাড়িতে বস্তা উঠিয়ে এক টাকা ৩০ পয়সা পাবো। আগে দিন আয় করতাম সাত থেকে আটশ টাকা। আর আজ তিনজনে মিলে আয় করলাম সাতশ টাকা। এভাবে চলতে থাকলে নিজে কী খাবো, আর বাড়িতে বাবা-মাকে কী পাঠাবো বুঝতে পারছি না।’

এদিকে জাহাজ থেকে ঘাটে সিমেন্ট না ওঠায় শ্রমিকদের পাশাপাশি কাজ বন্ধ ঘাটের গাড়িচালকদের। ঘাটে শ্রমিকদের ওঠানো সিমেন্টের বস্তা বিভিন্ন ডিলারের দোকানে পৌঁছে দিতেন গাড়িচালক মো. ফরহাদ। তিনি বলেন, ‘তিন দিন ধরে আমাদের কাজ বন্ধ। গাড়ি চলে না। আগে দুই ট্রিপ দিলে আট থেকে নয়শ টাকা পেতাম। বসে দিন কাটছে। ঢাকা আমার পরিবার আছে। বাড়িতে বাবা-মা, ছোট বোন আছে। আমি কাজ করে বাড়িতে টাকা পাঠালে তাদের পেটে ভাত জোটে।’

এই গাড়িচালক বলেন, ‘এছাড়াও বাড়িতে প্রতি সপ্তাহে কিস্তি দিতে হয় ১৬০০ টাকা, মাসে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। এখন উল্টা বাড়িতে থেকে আমাকে টাকা পাঠাতে হচ্ছে। ঢাকায় কাজ না থাকলেও খরচ আছে। আমরা চাই আমাদের কাজ চলুক। আমরা দিন আনি দিন খাই। এভাবে লকডাউন থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আমাদের কাজের ব্যবস্থা করে দিয়ে তারপর লকডাউন চালু রাখুক।’

শ্রমিকরা বলছেন, লকডাউনের কারণে বড় বড় নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় তাদের ঘাটে নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা কমে গেছে। ফলে ঘাটের মালিকরা নতুন করে পণ্যের অর্ডার দিচ্ছে না। আর এতেই কাজ হারিয়ে বেকার হয়েছেন জাহাজ থেকে পণ্য ওঠা-নামা করা শ্রমিকরা। তাদের দাবি সরকার, আয়ের বিকল্প ব্যবস্থা না করে দিলে পরিবার নিয়ে অনাহারে থাকতে হবে তাদের।   এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/বি

[এলএ বাংলাটাইমসের সব নিউজ আরও সহজভাবে পেতে ‘প্লে-স্টোর’ অথবা ‘আই স্টোর’ থেকে ডাউনলোড করুন আমাদের মোবাইল এপ।]