দুবাইর স্বর্ণ ব্যবসায়ী আরাভ খান সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য । একজন পুলিশকে খুন করার ঘটনায় অভিযুক্ত আরাভের এফডিসিতে যাতায়াত ছিলো। তখনই তার সেলিব্রেটিদের সঙ্গে যোগাযোগটা গড়ে উঠে। নগদ টাকার জেরে নায়ক-নায়িকাদের সহজেই কাছে পান আরাভ খান। যেটির প্রমাণ পাওয়া গেছে, তার সোনার দোকানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে।
অভাব-অনটনের সংসার ছিল আরাভ খান ওরফে রবিউল ইসলামের। ফেরিওয়ালা বাবার সামান্য উপার্জনের টাকা দিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। এজন্য বাগেরহাটে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে পাড়ি জমান ঢাকায়। যাতায়াত শুরু করেন এফডিসিতে।
আরাভের উত্থান নিয়ে তার ঘনিষ্ঠজন ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, স্কুলে পড়া অবস্থায়ই তার ইচ্ছা ছিল সিনেমায় কাজ করার। এরপর পালিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। দীর্ঘ সময় এফডিসির আশপাশে ঘোরাফেরা করেন। এর মধ্যে হোটেল বয় হিসাবে কাজ করেন। জড়িয়ে পড়েন ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে।
পরবর্তীকালে ফিল্ম পরিচালক হিসাবে নাম ও নম্বর দিয়ে কিছু কার্ড ছাপান। সেগুলো হাতিরঝিলসহ আশপাশের এলাকায় বিতরণ করেন। দৈনিক ৩০০-৪০০ কার্ড বিতরণ করলে ১০-১৫ জন তাতে সাড়া দিতেন। তারা মডেলিং করার আশায় আরাভের দেয়া স্থানে চলে যেতেন। এমন অনেকের কাছ থেকে আরাভ টাকাপয়সাও নিয়েছেন।
পরে আরাভ কিছু শর্ট ফিল্ম করেছিলেন। এগুলো করতে গিয়ে অনেক মেয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের দিয়ে গুলশান-বনানীকেন্দ্রিক বড় চক্র গড়ে তোলেন। বদলে যেতে থাকে তার চলাফেরা ও চালচলন। শূন্য হাতে ঢাকায় আসা যুবক হয়ে ওঠেন প্রভাবশালী।
‘আরাভ জুয়েলার্স’ উদ্বোধনে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মতো তারকার নাম আসায় চাপা পড়ে যায় আরও অনেকের কার্যক্রম। যারা আরাভের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলেন। এমন অন্তত সাতজনের নাম রয়েছে গোয়েন্দাদের হাতে। যাদের কয়েকজন কেবল আরাভের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন এমন নয়, বরং দেশে তার উত্থান ও অপকর্মের সহযোগী। তবে তদন্তের স্বার্থে এই ৭ অভিনয় শিল্পীর নাম পরিচয় জানানো হয়নি।
এলএবাংলাটাইমস/এজেড