দেশে সরকারি ওয়েবসাইট আছে প্রায় ৫২ হাজার। তথ্য সুরক্ষার বিবেচনায় এর মধ্যে ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এই ২৯টির মধ্যে থাকা জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কার্যালয়ের ওয়েবসাইটের কয়েক কোটি ব্যক্তিগত তথ্য সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে।
এদিকে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের নিরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর তালিকার আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানের সাইবার কাঠামোয় দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে। নাগরিকদের তথ্য ফাঁসের ঘটনা তদন্তে গতকাল সোমবার একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নাগরিক তথ্য সুরক্ষায় আরেকটি কমিটি গঠন করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ ৭ জুলাই এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে একটি সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের তথ্য ফাঁস হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকাভিত্তিক আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান বিটক্র্যাক সাইবার সিকিউরিটির গবেষক ভিক্টর মারকোপাওলোসের সূত্রে মার্কিন অনলাইন পোর্টাল টেকক্রাঞ্চ ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের বিষয়টি জানায়। ঘটনাটি দেশে-বিদেশে আলোড়ন তোলে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এ দুর্ঘটনা নিয়ে গতকাল রাজধানীর আইসিটি টাওয়ারে বৈঠক হয়েছে।
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে তিন ঘণ্টার ওই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো তালিকায় থাকা ২৯টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, আইসিটি বিভাগের অধীন ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি (ডিএসএ) এবং বাংলাদেশ ই-গভ কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (সার্ট) প্রকল্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে নাগরিক তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির মহাপরিচালককে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সার্ট এবং অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবেন। সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে তথ্য ফাঁসের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জানান, কী পরিমাণ তথ্য ফাঁস হয়েছে, কীভাবে হলো, এর ঝুঁকি কতখানি– এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যদি দেখা যায়, এ ঘটনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার ন্যূনতম দায় রয়েছে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে।
এই বৈঠকে নাগরিক তথ্য সুরক্ষায় আরেকটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কমিটিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিনিধি ছাড়াও সার্ট, ডিএসএসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার ও ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা থাকবেন। তারা নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষায় কাজ করবেন। সাইবার দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এই কমিটি কাজ করবে।
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস