বাংলাদেশ

"যাত্রীছাউনির অভাবে বাসস্ট্যান্ড ঘিরে গজিয়েছে দোকানপাট: যাত্রীরা ভাড়া নিয়ে চাপায়"

তিন কক্ষের যাত্রীছাউনি। সব কক্ষই এখন বাণিজ্যিক। মাঝের কক্ষটি যাত্রী বসার জন্য নির্ধারিত। ওই কক্ষে চলছে চা-পান বিক্রি। বাকি দুটি কক্ষের একটিতে ফলের দোকান, অন্যটিতে মোবাইল সার্ভিসিং ব্যবসা।
দুই দোকান থেকেই নেওয়া হয়েছে জামানত। ফলের দোকানে দুই লাখ ৫০ হাজার ও মোবাইল সার্ভিসিং দোকানে দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রতিটি দোকানে মাসিক ভাড়া তিন হাজার টাকা। অথচ ইজারার নিয়ম অনুযায়ী– এ ধরনের জামানত বা বাণিজ্যিক ব্যবহার অননুমোদিত। নীতিমালা রয়েছে, বাস্তবায়ন নেই।
যাত্রী বসার কক্ষের জন্য জামানত নেওয়া হয়নি। তবে সেটি নিয়ন্ত্রণ করছে হাট-বাজার ইজারা কমিটি। ফলে ছাউনিটিতে প্রকৃতপক্ষে যাত্রী বসার সুবিধা নেই। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করেন।
এমন চিত্র সখীপুর উপজেলার বড়চওনা বাজারের যাত্রীছাউনির। এই যাত্রীছাউনির ইজারাগ্রহীতা বড়চওনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক আল আমিন।
যাত্রীছাউনি স্থাপন-সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে– দুটি কক্ষের একটিতে যাত্রী বসার ব্যবস্থা এবং অন্যটিতে ফাস্টফুড জাতীয় হালকা খাবার বিক্রির অনুমোদন রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত তদারকি নেই।
জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের অর্থায়নে সখীপুর-ঢাকা সড়কে পাঁচটি যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হয়। নিম্নমানের উপকরণে নির্মিত হওয়ায় পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যেই সবকটি যাত্রীছাউনির ছাদ চুইয়ে পানি ভেতরে পড়ে। ওই পাঁচটি যাত্রীছাউনিতে দোকানের কক্ষ চালু রয়েছে। তিনটিতে যাত্রী দাঁড়ানোর উপায় নেই। দুটিতে আংশিক সেবা পাচ্ছেন যাত্রীরা। সরেজমিন এমন চিত্র উঠে এসেছে।
বেলতলী বাজারের যাত্রীছাউনিটি ইজারা নেননি কেউ। অব্যবহারযোগ্য ছাউনির এক কক্ষে মুদি দোকান চালাচ্ছেন হযরত আলী নামে এক ব্যক্তি। তিনি কক্ষটিতে যাত্রী বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তাঁর কক্ষের জন্য ভাড়া দিতে হয় না বলে দাবি তার।
কুতুবপুর বাজারের যাত্রীছাউনির দোকানের কক্ষটি সচল, যাত্রী বসার কক্ষটি সম্পূর্ণ অকার্যকর। এটিও ভাড়ায় চলছে। কচুয়া বাজারের ছাউনিটির একটি কক্ষে রয়েছে ওষুধের দোকান, জামানত ও মাসিক ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। অন্য কক্ষটি আংশিক যাত্রীসেবায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
থানার পাশেও একটি যাত্রীছাউনি, যার কক্ষ দুটি। অযত্নে ছাউনিটি বেহাল হয়ে পড়েছে। একটি কক্ষে চা-বিস্কুটের দোকান, যাত্রীকক্ষে বাসের টিকিট কাউন্টার। ছাউনির চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ও ডাস্টবিন-দুর্গন্ধময় পরিবেশ। এটি পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় বাস যাত্রীদের দাবি, এই যাত্রীছাউনিটি ভেঙে গণশৌচাগারসহ অত্যাধুনিক মডেলের একটি নতুন ভবন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে পৌর কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
শিল্পী রাজর্ষী নামে এক বাসযাত্রী বলেন, ‘রোদ হোক বা বৃষ্টি, দাঁড়াতে হয় রাস্তায়। ছাউনিতে বসা তো দূরের কথা, দাঁড়ানোর জায়গাও নেই। এটা কি সত্যিই আমাদের জন্য বানানো?’
জানতে চাইলে মোবাইল সার্ভিসিং ব্যবসায়ী সজীব হোসেন দোকানের জামানতের টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করে সমকালকে বলেন, মাসে তিন হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে।
ইজারা গ্রহীতা আল আমিনের ভাষ্য, নিয়ম মেনেই চলছে সবকিছু। তিনি জামানত ও ভাড়ার টাকা গ্রহণের সত্যতা স্বীকার করেন।
ইউএনও আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, যাত্রীছাউনিগুলো জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন। ইজারার সিদ্ধান্ত ও তদারকি করে জেলা পরিষদ।
জেলা পরিষদ সচিব শামসুন্নাহার স্বপ্নার ভাষ্য, জেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপদ বিভাগ আলোচনা করে চুক্তি সাপেক্ষে সমন্বিত উদ্যোগে যাত্রীছাউনিগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।     এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস