বাংলাদেশ

যন্ত্রণায় ছটফট করছে খাদিজা : ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি ফিরে আসছে

ধীরে ধীরে খাদিজার স্মৃতিশক্তি ফিরে আসছে। শরীরে যেসব অংশে যখম আছে সেসব জায়গার ব্যথার যন্ত্রণায় ছটফট করছে সে। দেখে খুবই কষ্ট হয়। তার শরীরের বাম দিকের অনুভূতি এখনও ফিরে আসেনি। চিকিৎসকরা বলছেন আরো সময় লাগবে। তবে সে ডান হাত ও ডান পা নাড়াতে পারছে। খাদিজা সম্পর্কে জানতে চাইলে তার বাবা মাসুক মিয়া এভাবেই তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা করেন। শুক্রবার (২১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি এসব কথা বলেন।

খাদিজার মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার মেয়ে শুধু কান্না করছে। তার দুই চোখে আমি এখনও আতঙ্কের ছাপ দেখছি। তার ভেতর থেকে ভয় এখনও কাটছে না। আমাদের দিকে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকছে। ডাক দিলে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা শুধু তাকে ভরসা দিয়ে আসছি, এখন আর তার কিছু হবে না।’

তিনি বলেন, ‘মেয়েটা আমার সদ্যভুমিষ্ট হওয়া শিশুর মতো হয়ে গেছে। তাকে বলছি আমি তোমার আম্মা, তখন সে আম্মা বলে ডাকছে আর কাঁদছে। তার বাবাকে বাবা বলেও ডেকেছে। কথা বলতে তার ‍খুবই কষ্ট হচ্ছে।’

কান্নাজড়ি কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে যে হামলা করেছে তার সুষ্ঠু বিচার আমি চাই। তা না হলে খাদিজার মতো আরো অনেক মেয়ে এ ধরণের ঘটনার শিকার হবে। কতটা নির্মম আর অমানুষ হলে একটা মেয়েকে এভাবে কুপিয়ে মারার চেষ্টা করে আমি ভাবতে পারি না।

খাদিজার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসপাতালের মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ারের পরিচালক মির্জা নাজিম উদ্দিন বলেন, খাদিজার শারীরিক অবস্থার আরো উন্নতি হয়েছে। তাকে তরল খাবার দেওয়া হচ্ছে। ডাক দিলে সাড়া দিচ্ছে। তবে খাদিজার শরীরের বাম পাশ এখনো কাজ করছে না।

প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর বিকেলে সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজা বেগম নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি