বাংলাদেশ

এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকদের অনশন : অসুস্থ ৯০, ৪ জন হাসপাতালে

এমপিওভুক্তির দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো আমরণ অনশন পালন করছেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। এ অনশনের অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৯০ জন শিক্ষক। এর মধ্যে চার জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে এ তথ্য জানিয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের মুখপাত্র শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, অসুস্থ শিক্ষকদের মধ্যে ফেডারেশনের সভাপতি মাহমুদুন্নবী এবং সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণও রয়েছেন। তবে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি। তারা অনশনরত শিক্ষকদের সঙ্গেই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ঠাকুরগাঁয়ের তসলিম উদ্দিন, পিরোজপুরের আব্দুস সালাম, পটুয়াখালীর হেমায়েত উদ্দিন ও ভোলার ফজলুল হক ফিরোজ।

এর আগে, নন-এমপিও শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে বুধবার (৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, বুধবারের মধ্যে দাবি আদায় না হলে তারা বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেবেন। তবে শিক্ষক সমিতির এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানিয়েছিলেন, তারা রাজপথে অনশনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করবেন।

এর আগে মঙ্গলবার অনশনস্থলে গিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছেন এবং তাদের দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রীর এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। তাদেরকে একইভাবে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাই এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বে না বলে ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্তির দাবিতে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে আসছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা। আমরণ অনশন, অবস্থান ধর্মঘট, শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর বিভিন্ন সময়ে তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন এই একই দাবিতে। তা সত্ত্বেও ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি অথবা বাড়তি ভাতার ব্যবস্থা করতে কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি। তাই আবার রাজপথে নেমেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে তারা অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি