বাংলাদেশ

পদ্মা সেতুতে দ্বিতীয় স্প্যান বসতে পারে আজ

পদ্মা সেতুর ৩৮ ও ৩৯ নম্বর খুটির ওপর দ্বিতীয় স্প্যানটি বসানোর কাজ শনিবার সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শেষ করা সম্ভব হয়নি। আজ রোববার যেকোনো সময় স্প্যানটি বসানো হবে। দ্বিতীয় স্প্যান বসানোর মধ্যদিয়ে আরো একধাপ এগুবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেরসহ সারাদেশের কোটি মানুষের স্বপ্নের সেতু।

সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে ইতোমধ্যে সেতুর প্রায় ৫৩ শতাংশ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, যতই দিন গড়াচ্ছে এক একটি পিলার মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে পদ্মার বুকে। এ যেন শুধু কংক্রিটের পিলার নয় এক একটি স্বপ্নের সিঁড়ি।

২০১৪ সালের ২৮ জুন চায়না মেজর ব্রিজ কনস্ট্রাকশন কোম্পানির সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই শুরু হয় দেশের সর্ববৃহৎ ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটারের পদ্মা সেতুর কাজ। কংক্রিট ও ইস্পাতের তৈরি দ্বিতল এ সেতুতে মোট পিলার থাকবে ৪২টি। বর্তমানে প্রায় ৫০ ভাগ পিলার নির্মাণের কাজ চলছে। এক পিলার থেকে আরেক পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার। মোট স্প্যান বসানো হবে ৪১টি। একেকটি স্প্যানের ওজন তিন হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি।

পদ্মা সেতুর প্রতিটি পিলারের নিচে ছয়টি করে পাইল বসানো হচ্ছে। মোট পাইল বসানো হবে ২৪০টি। পাইলগুলো ৯৬ থেকে ১২৮ মিটার মাটির গভীরে বসানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত শতাধিক পাইল বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতল এ সেতুর নিচ দিয়ে চলবে রেল গাড়ি আর উপর দিয়ে যাতায়াত করবে যান ও পণ্যবাহী পরিবহন। পানির স্তর থেকে ৬০ ফুট উঁচু হবে মূল সেতু। সেতুর প্রস্থ হবে ৭২ ফুট বা চার লেন। চার হাজারেরও বেশি দেশী-বিদেশী জনবল দিন-রাত সেতু নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের কাজ শেষ হওয়ার পর এ দুটি খুঁটির উপর প্রথম স্প্যানটি বসানো হয়। গত ২০ জানুয়ারি ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের তিন হাজার টন এর বেশি ওজনের স্প্যানটি প্রায় চার হাজার টন বহন সক্ষমতার তিয়ান-ই ক্রেন মুন্সীগঞ্জের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে রওনা হয়। ২৩ জানুয়ারি পদ্মা সেতুর জাজিরা অংশে পৌঁছায়। মাওয়া প্রান্ত থেকে রওয়ানা দিয়ে জাজিরা প্রান্তে পৌঁছতে সময় নেয় তিন দিন। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর প্রস্তুতি শেষে শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয় দ্বিতীয় স্প্যানটি বসানোর আনুষ্ঠানিক কাজ। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুরো দিন চেষ্টা চালিয়ে দ্বিতীয় স্প্যান বসানোর কাজ শেষ করা যায়নি।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি