কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত বদলে দিচ্ছে ব্যাংকিং খাত। গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে জালিয়াতি শনাক্তকরণ, ঋণ মূল্যায়ন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা—বিভিন্ন কাজে ব্যাংকগুলো এআই ব্যবহার বাড়াচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি এর একটি অন্ধকার দিকও সামনে আসছে, যা ভবিষ্যতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
এআইয়ের উন্নতির ফলে সাইবার অপরাধীরা আগের তুলনায় আরও নিখুঁতভাবে প্রতারণা চালাতে পারছে। মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করা, ভুয়া ভিডিও তৈরি করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্য বার্তা পাঠানোর মতো কাজ এখন আগের চেয়ে সহজ হচ্ছে। ফলে ব্যাংকের গ্রাহকদের লক্ষ্য করে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের একটি বড় জায়গা হলো ‘ডিপফেক’। এআই ব্যবহার করে কারও মুখ ও কণ্ঠস্বর এমনভাবে নকল করা সম্ভব হচ্ছে যে সেটিকে আসল বলে মনে হতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রাহক কিংবা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির পরিচয় নকল করে অর্থ স্থানান্তরের মতো প্রতারণা চালানো যেতে পারে।
এআই শুধু বাইরের অপরাধীদের জন্যই ঝুঁকি তৈরি করছে না। ব্যাংকগুলো নিজেরাই যখন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও এআইভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর বেশি নির্ভর করছে, তখন ভুল তথ্য বা ত্রুটিপূর্ণ মডেলও সমস্যার কারণ হতে পারে। কোনো এআই সিস্টেম ভুলভাবে একজন গ্রাহককে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করলে ঋণ বা অন্যান্য আর্থিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তথ্যের নিরাপত্তা। এআই সিস্টেমকে প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রয়োজন হয়। এসব তথ্যের মধ্যে গ্রাহকের আর্থিক ও ব্যক্তিগত তথ্য থাকলে সেগুলো কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
ব্যাংকিং খাতে এআই ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রকদের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিয়ে এআইনির্ভর প্রতারণার সব ধরন শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। তাই ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তির পাশাপাশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ, তথ্য সুরক্ষা এবং প্রতারণা শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হচ্ছে।
এআই ব্যাংকিং খাতে দক্ষতা বাড়াতে এবং গ্রাহকদের দ্রুত সেবা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি যত বেশি শক্তিশালী হচ্ছে, এর অপব্যবহার ঠেকানোও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তাই এআইয়ের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করাই বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।