জনপ্রিয় ডিজনি তারকা ও পপ গায়িকা কোকো লি মারা গেছেন। হংকংয়ে জন্মগ্রহণকারী ৪৮ বছর বয়সী এ গায়িকা বুধবার মারা যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে এক পোস্টে তার বোন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর-সিএনএন ও বিবিসি
লির বোন ক্যারল ও ন্যান্সি জানান, তিনি ‘কয়েক বছর’ ধরে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। রোববার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু কোমা থেকে আর ফেরানো যায়নি। বুধবার তিনি মারা যান।
ওয়েস্টার্ন হিপহপের সঙ্গে তার আরএন্ডবি মিউজিক তাকে যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। লি’র জন্মগ্রহণ হংকংয়ে, শৈশবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। বেড়ে ওঠেন সান ফ্রান্সিসকোতে। মাধ্যমিক পড়াশোনার পর তিনি ছুটিতে তার জন্ম শহরে ফিরে যান। যেখানে একটি গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিনি প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরষ্কার জিতেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে তার পপ ক্যারিয়ারের পথচলা শুরু হয়।
১৯৯৪ সালে দুটি ম্যান্ডারিন অ্যালবামের মাধ্যমে লি ম্যান্ডোপপ সংগীতে প্রবেশ করেন। পরের বছরের মধ্যে তিনি একটি ইংরেজি ভাষার অ্যালবাম বের করেন। পাশাপাশি তৃতীয় ম্যান্ডারিন অ্যালবামও প্রকাশ করেন।
তিনি মুলান থিম সং ‘রিফ্লেকশন’ ম্যান্ডারিন ভাষায়ও গেয়েছেন। তার গান ‘বিফোর আই ফল ইন লাভ’ ১৯৯৯ সালে হলিউড ফিল্ম রানঅ্যাওয়ে ব্রাইড এ যখন গাওয়া হয় যেখানে কণ্ঠ মেলান বিখ্যাত অভিনয় শিল্পী জুলিয়া রবার্টস ও রিচার্ড গেরে।
১৯৯৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় মাইকেল জ্যাকসন অ্যান্ড ফ্রেন্ডস বেনিফিট কনসার্টে তিনি পারফর্ম করেন। তিনি টিভি ট্যালেন্ট শো ‘চাইনিজ আইডল’ অনুষ্ঠানের বিচারকও ছিলেন।
তিনি ম্যান্ডারিন ও ইংরেজিতে অ্যালবাম প্রকাশ করেন। ডিজনির হিট ফিল্ম মুলান- এর ম্যান্ডারিন সংস্করণে প্রধান চরিত্রে কণ্ঠ দেন।
লির বোন ক্যারল ও ন্যান্সি জানান ওই পোস্টে তার ক্যারিয়ার নিয়ে লিখেছেন, ‘গত ২৯ বছরে তিনি অগণিত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও প্রশংসা পেয়েছেন। দুর্দান্ত লাইভ পারফরম্যান্সের জন্য শ্রোতাদের ওপর একটি বিস্ময়কর ছাপ রেখে গেছেন। এই বছরটি লি’র গাওয়া ক্যারিয়ারের ৩০তম বছর হিসেবে চিহ্নিত হবে।’
তারা আরও লেখেন, ‘সংগীতে চীনা গায়কদের জন্য একটি নতুন বিশ্ব উন্মোচন করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন কোকো। তিনি চীনাদের জন্য উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলেন। আমরা তার জন্য গর্বিত।’
এই দুই বোন পোস্টে লেখেন, যদিও কোকো পৃথিবীতে বেশিদিন ছিলেন না, তবে তার আলোররশ্মি চিরকাল থাকবে।
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস