বিনোদন

নিউইয়র্কে তারকাখচিত অনুষ্ঠানে টেলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসের বিয়ে

পপ তারকা টেলর সুইফট ও আমেরিকান ফুটবল খেলোয়াড় ট্রাভিস কেলস অবশেষে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত তারকাখচিত এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন কমেডিয়ান অ্যাডাম স্যান্ডলার। টেলরের দীর্ঘদিনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ট্রি পেইন বিবিসিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিয়েতে দুজনেই ক্রিশ্চিয়ান ডিওরের পোশাক পরেছিলেন। এ অনুষ্ঠানে আলাদা ব্রাইডসমেইড বা গ্রুমসমেইড রাখা হয়নি। টেলরের ভাই অস্টিন সুইফট ছিলেন তাঁর ‘ম্যান অব অনার’, আর ট্রাভিসের ভাই ও সাবেক ফুটবলার জেসন কেলস ছিলেন বরের বেস্ট ম্যান। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের এই আয়োজন ম্যানহাটনের ব্যস্ততম এলাকাগুলোর একটি বন্ধ করে দেয়। হলিউডের বড় তারকারাও হাজির হন এই বিয়েতে, যাকে অনেকে ‘শতাব্দীর পার্টি’ বলেই বর্ণনা করছেন। অভিনেতা হিউ গ্রান্ট, জেসন সুদেকিস, গায়ক বেনসন বুন এবং মডেল গিগি হাদিদসহ অনেক পরিচিত মুখকে সেখানে দেখা গেছে। শুক্রবার সারাদিন ভেন্যুর বাইরে ভিড় জমিয়ে ছিলেন টেলর ভক্তরা। কেউ তাঁর গান গেয়েছেন, কেউ কনসার্টের স্মারক পোশাক পরে এসেছেন। আবার কেউ কেউ ভালো করে অনুষ্ঠান দেখার আশায় নির্মাণস্থলের স্ক্যাফোল্ডিংয়েও উঠে পড়েন। অনুষ্ঠানের শুরু হয়েছিল বৃহস্পতিবার, তুলনামূলক ছোট পরিসরের একটি আয়োজন দিয়ে। অনুমতিপত্রে সেটিকে ‘প্রি-পার্টি’ বলা হয়েছিল এবং সেখানে প্রায় ১০০ জন অতিথি ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। শুক্রবার মূল অনুষ্ঠানের জন্য বাইরে আরও বড় তাঁবু খাটানো হয়। কালো কাচঢাকা এসইউভির সারি সেই তাঁবুর ভেতর দিয়ে ঢোকে, যাতে অতিথিরা আড়ালে ভেন্যুতে প্রবেশ করতে পারেন। গোপনীয়তা বজায় রাখতে ভেন্যুর কর্মীরা পর্দা ও গেজেবোও বসান। ট্রি পেইন জানান, জোনাথন অ্যান্ডারসন—যিনি ডিওরের নারী, পুরুষ ও হাউট কুতুর বিভাগের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর—বর-কনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে তাঁদের বিয়ের পোশাক ডিজাইন করেছেন। তিনি বলেন, “বিশ্বখ্যাত এক তারকার জন্য এটি ডিজাইনারের প্রথম কুতুর বিয়ের পোশাক।” পেইনের ভাষ্য অনুযায়ী, জুতাগুলো ছিল ক্রিশ্চিয়ান লুবুতাঁর কাস্টম তৈরি, আর কনে পরেছিলেন কার্টিয়ের গয়না। বিয়ের দিন পুরো এলাকাজুড়ে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। দমবন্ধ করা গরমের মধ্যেও উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দুপুরের পর নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের আশপাশের রাস্তা যান ও পথচারী চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেয়। তবু ক্যামেরা আর ভক্তদের ভিড় পুরোপুরি এড়ানো যায়নি। গিগি হাদিদকে গোলাপি ঝলমলে পোশাকে তাঁর সঙ্গী ব্র্যাডলি কুপারের সঙ্গে যেতে দেখা যায়। অভিনেত্রী ড্যাকোটা জনসনকেও সেখানে দেখা গেছে। কেলসের ফুটবল দলের কয়েকজন সদস্যও বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, টিভি উপস্থাপক গ্রাহাম নর্টনও ছিলেন অতিথিদের তালিকায়। ইথান হক, বেনসন বুন, হিউ গ্রান্ট ও তাঁর স্ত্রী আনা এলিজাবেথ এভারস্টেইনকেও দেখা গেছে। বাইরে অপেক্ষমাণ ভক্তদের উচ্ছ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো। সব বয়সের সুইফটিরা আশপাশের প্রতিটি ব্লকে ভিড় করেন। কালো কাচঢাকা গাড়ি যত ভেতরে ঢুকেছে, ভিড় ততই উচ্ছ্বসিত হয়েছে। কেউ প্রিয় গানের লাইন গেয়েছেন, কেউ আবার “উই লাভ ইউ টেলর” বলে চিৎকার করেছেন। অনুষ্ঠান শুরু হলে টেলরের স্মারকপণ্য পরা ভক্তরা স্ক্যাফোল্ডিংয়ে উঠে উল্লাস করতে থাকেন। বৃহস্পতিবারের রিহার্সাল ডিনারেও ছিল তারকাদের আনাগোনা। লেনা ডানহাম থেকে শুরু করে টেলরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জ্যাক অ্যান্টোনফ—অনেক পরিচিত মুখকে সেদিন ফরমাল পোশাকে দেখা গেছে। ওই রাতেও ভেন্যুর বাইরে কালো এসইউভির সারি ছিল। দুই দিনের এই আয়োজনকে অনেকে ‘শতাব্দীর বিয়ে’ বলছেন। নিউইয়র্কের একাংশ কার্যত দখল করে নেওয়া এই অনুষ্ঠান বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছে। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংও এই উপলক্ষে আলোয় সেজে ওঠে। অনলাইন বেটিং বাজারেও বিয়ে নিয়ে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছিল। পপ-সংস্কৃতি বিশ্লেষক ক্রিস্টেন মেইনজার বিবিসিকে বলেন, টেলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসের বিয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁরা আমেরিকার দুই বড় সাংস্কৃতিক জগত—সংগীত ও ফুটবল—এর প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর ভাষায়, “আমরা সংগীত আর ফুটবলের সিংহাসনকে পূজা করি—আমেরিকায় যেসব জিনিস আমরা ভালোবাসি, সেগুলোরই মিলন ঘটেছে এখানে।” নিউইয়র্কে তারকাদের নিয়ে সাধারণত বাড়তি হৈচৈ করা হয় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। “এখানে সাধারণত তারকাদের পেছনে ছোটে না মানুষ, আমরা তাঁদের বিরক্ত করি না,” বলেন মেইনজার। পেনসিলভানিয়ায় জন্ম নেওয়া টেলর ২০১৪ সাল থেকে নিউইয়র্কে থাকেন। তখন তিনি ট্রাইবেকায় পাশাপাশি দুটি পেন্টহাউস কিনে সেগুলো একত্র করে বড় বাসস্থান বানিয়েছিলেন। শহরে এসে তিনি নাকি বুঝেছিলেন, এখানে নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করা যায়। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর ‘Welcome to New York’ গানের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, ক্যানসাসভিত্তিক ট্রাভিস কেলস ২০২৩ সালে টেলরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর পর থেকেই নিউইয়র্কের সঙ্গে পরিচিত হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিয়ের আয়োজন করতে ভেন্যু ভাড়া ও অন্যান্য খরচে কয়েক কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। অনুষ্ঠানের আগে টেলর ও ট্রাভিস ২০টিরও বেশি দাতব্য সংস্থায় ২৬ মিলিয়ন ডলার দান করেন, যদিও তখন তাঁরা বিয়ের কথা প্রকাশ করেননি। তবে অনেকের কাছেই ২০ হাজার ধারণক্ষমতার এই ভেন্যুতে বিয়ে করা ছিল অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত। কনসার্ট ও খেলাধুলার জন্য পরিচিত এই স্থানে জানালা না থাকা এবং ভূগর্ভস্থ প্রবেশপথ থাকায় কিছুটা গোপনীয়তা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। তবু অনেকেই বলছেন, এমন ভেন্যুকে রূপকথার বিয়ের মঞ্চে বদলে দিতে পারলে সেটা টেলর সুইফটই পারবেন। ভেন্যুর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক ভক্ত বলেন, “আমি ভেবেছিলাম আরও বাগান, আরও ফুল, আরও জমকালো কিছু হবে। আরও টেলর সুইফটের মতো কিছু।” আরেক নিউইয়র্কবাসী রোজ বলেন, ব্যস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া “কিছুটা বাড়াবাড়ি” হলেও, “টেলর সুইফটের বিয়ে বলেই এটা সুন্দর হবে।” আরেক ভক্ত টারা রোসালেস বলেন, “আমি জানতাম তিনি নিউইয়র্কেই বিয়ে করবেন, কিন্তু কোথায়—তা জানতাম না। বিশ্বাসই হচ্ছে না, আমি সত্যিই অবাক। আর খুবই খুশি।” তাঁর কথায়, “টেলর কখনোই কারও জন্য বিরক্তির কারণ নন। তিনি যা খুশি করতে পারেন।”


এলএবাংলাটাইমস/ওএম