বিনোদন

টুপাক শাকুর হত্যার পরিকল্পনায় সাবেক গ্যাং বস দোষী সাব্যস্ত

র‌্যাপ তারকা টুপাক শাকুর হত্যার ঘটনায় সাবেক গ্যাং নেতা ডুয়েন ‘কেফি ডি’ ডেভিসকে দোষী সাব্যস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। প্রায় ৩০ বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা এই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডে এটিই প্রথম কোনো ব্যক্তির দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা। সোমবার লাস ভেগাসের আদালতে ৬৩ বছর বয়সী ডেভিসের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগের রায় ঘোষণা করা হয়। জুরি তাকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার এক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায় ঘোষণার সময় কালো স্যুট পরা ডেভিসকে শান্ত ও নির্বিকার অবস্থায় দেখা যায়। পরে তিনি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানান। ১৯৯৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর লাস ভেগাসে গাড়ি থেকে গুলি চালিয়ে টুপাক শাকুরকে হত্যা করা হয়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার ছয় দিন পর তিনি মারা যান। মামলার বিচার চলাকালে ২০০৮ সালে পুলিশের করা একটি সাক্ষাৎকারের রেকর্ডিং আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে ডেভিস বলেছিলেন, যে গাড়ি থেকে গুলি চালানো হয়েছিল, তিনি সেই গাড়িতে ছিলেন। তবে টুপাককে লক্ষ্য করে তিনি নিজে গুলি চালাননি বলেও জানান। প্রসিকিউটররা বলেন, ডেভিস নিজে গুলি না চালালেও হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ তিনিই দিয়েছিলেন এবং গুলি চালানোর জন্য অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। তার ভাগ্নে অরল্যান্ডো অ্যান্ডারসন ওই অস্ত্র ব্যবহার করে টুপাকের গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। অ্যান্ডারসন ১৯৯৮ সালে পৃথক এক বন্দুক হামলায় নিহত হন। টুপাক হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, টুপাক ও তার সহযোগীদের সঙ্গে অ্যান্ডারসনের সংঘর্ষের কয়েক ঘণ্টা পর প্রতিশোধ হিসেবে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। ডেভিস তখন সাউথ সাইড কম্পটন ক্রিপস গ্যাংয়ের অন্যতম নেতা ছিলেন। টুপাকের হত্যাকাণ্ড ঘটে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের হিপ-হপ অঙ্গনে ইস্ট কোস্ট ও ওয়েস্ট কোস্টের শিল্পীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল। একই সময়ে ব্লাডস ও ক্রিপস গ্যাংয়ের মধ্যেও সংঘাত ছিল। হিপ-হপ সংস্কৃতির সঙ্গে এসব গ্যাংয়ের গভীর সম্পর্ক ছিল। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত টুপাকের পরিবারের সদস্যদের আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা যায়। কেউ কেউ একে অপরের হাত ধরে ছিলেন, আবার কেউ আলিঙ্গন করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আদালতের বাইরে টুপাকের ভক্তরাও আনন্দ ও আবেগ প্রকাশ করেন। মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ছিল টুপাক হত্যাকাণ্ডে ডেভিসের নিজের বক্তব্য। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, তথ্যচিত্র, পডকাস্ট এবং নিজের লেখা স্মৃতিকথায় তিনি একাধিকবার হত্যাকাণ্ডের সময় সাদা ক্যাডিলাক গাড়িতে থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন। ২০০৮ সালে র‌্যাপার দ্য নোটোরিয়াস বিআইজি, যার আসল নাম ক্রিস্টোফার ওয়ালেস, হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সময় পুলিশ গোপনে ডেভিসকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সেই সাক্ষাৎকারেই তিনি টুপাক হত্যাকাণ্ডে নিজের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। পরে ২০১৯ সালে প্রকাশিত তার স্মৃতিকথা ‘কম্পটন স্ট্রিট লিজেন্ড’-এও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছিলেন। তবে প্রসিকিউটরদের দাবি, বই প্রকাশ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার মাধ্যমে ডেভিস পুলিশের সঙ্গে করা আগের সুরক্ষা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেন। ফলে তার ২০০৮ সালের পুলিশি বক্তব্য আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। সমাপনী বক্তব্যে প্রসিকিউটর বিনু পালাল বলেন, ডেভিস বছরের পর বছর বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেকেই টুপাক হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে ডেভিসের আইনজীবী মাইকেল স্যানফট দাবি করেন, বই বিক্রি ও অর্থ উপার্জনের জন্য ডেভিস গল্প বানিয়ে বলেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, ডেভিসের কথার বাইরে হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ নেই। তবে জুরি মামলাটি হাতে পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডেভিসকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত আগামী ১৩ অক্টোবর ডেভিসের সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন। রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে বের হওয়ার আগে ডেভিস নিজের কিছু ব্যক্তিগত জিনিস ফেরত চান এবং বলেন, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান। বিচারক জানান, সাজা ঘোষণার পর তিনি আপিলের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। টুপাক শাকুর ছিলেন র‌্যাপ সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী। বিশ্বজুড়ে তার রেকর্ডের বিক্রি ৭ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি। তার হত্যাকাণ্ড প্রায় তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হয়ে ছিল।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম