ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ এগিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে একটি বিল অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। বিলটি সিনেটে অনুমোদন পেলে তা গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের কাছে স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে।
‘অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭’ নামের এই বিলটি উত্থাপন করেছেন সান ফ্রান্সিসকোর ডেমোক্র্যাট অ্যাসেম্বলিম্যান ম্যাট হ্যানি। গত মে মাসের শেষ দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাসেম্বলিতে ৬৪-১ ভোটে বিলটি পাস হয়। এখন সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এটি।
আগামী সোমবার আইনসভা অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে সিনেটে বিলটি পাস হতে হবে। তা হলে বিলটি নিউজমের কাছে যাবে।
বিলটি আইনে পরিণত হলে রাজ্য সরকারের কর্মীরা তাদের বিদ্যমান বেতনসহ ছুটির সুবিধা ব্যবহার করে ঈদের দিন ছুটি নিতে পারবেন। একই সঙ্গে সরকারি স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলো ঈদ উপলক্ষে বন্ধ রাখার সুযোগ পাবে।
বিলটির অন্যতম উদ্যোক্তা ম্যাট হ্যানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ও প্রাণবন্ত মুসলিম সম্প্রদায়গুলোর একটি ক্যালিফোর্নিয়ায় রয়েছে। তাই তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন নিজের ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর একটি উদযাপন করা এবং স্কুলে উপস্থিত থাকার মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য না হয়। একইভাবে কোনো কর্মীকেও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের জন্য কাজের দায়িত্ব বিসর্জন দিতে হওয়া উচিত নয়।
হ্যানির মতে, বিলটি ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিমদের অন্য সব সম্প্রদায়ের মতো সমান মর্যাদা ও সম্মান দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করবে।
ঈদুল ফিতর হলো রমজান মাসের শেষে উদযাপিত উৎসব। এক মাস ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখার পর মুসলিমরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন।
অন্যদিকে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আল্লাহর নির্দেশে নিজের সন্তানকে কোরবানি করার ইচ্ছার স্মরণে পালিত হয়।
বিলটির সমর্থকরা বলছেন, এটি মুসলিম শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ঈদের নামাজে অংশ নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ আরও সহজ করবে।
ক্যালিফোর্নিয়ার কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (CAIR) আইন ও সরকারি সম্পর্কবিষয়ক পরিচালক ওসামা মোকাদ্দেম বলেন, বহু বছর ধরে অঙ্গরাজ্যের মুসলিম পরিবারগুলোকে ধর্মীয় দায়িত্ব এবং পড়াশোনা বা চাকরির বাধ্যবাধকতার মধ্যে কঠিন সমন্বয় করতে হয়েছে। এই বিল মুসলিমদের অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মতো মর্যাদা, সম্মান ও সুযোগ দেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মুসলিম ইমপ্যাক্ট কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা হালা হিজাজিও নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। সান ফ্রান্সিসকো শহরে চাকরি করার সময় একপর্যায়ে তাকে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে না পারার কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।
হিজাজি বলেন, ঈদের নামাজের পর তার পরিবার একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেত এবং শিশুদের উপহার দিত। সেই সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে না পারা তার জন্য খুবই কষ্টের ছিল।
তবে বিলটির স্কুলসংক্রান্ত কিছু বিধানের বিরোধিতা করছে রক্ষণশীল খ্রিস্টান সংগঠন ক্যালিফোর্নিয়া ফ্যামিলি কাউন্সিল। সংগঠনটি ধর্মীয় উৎসবে শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করলেও স্কুলে ঈদের তাৎপর্য ও গুরুত্ব উদযাপনের জন্য বিশেষ আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার বিরোধিতা করছে।
সংগঠনটির দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার আইনে বড়দিন, ইস্টার বা গুড ফ্রাইডের তাৎপর্য উদযাপনের জন্য সরকারি স্কুলগুলোকে একই ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে ঈদের ক্ষেত্রে আলাদা সুযোগ দেওয়া হলে তা সমতার প্রশ্ন তৈরি করে।
বিলটি আইনে পরিণত হলে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বীকৃত অন্যান্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের তালিকায় যুক্ত হবে। এর মধ্যে রয়েছে লুনার নিউ ইয়ার ও দিওয়ালি।
ঈদের ছুটি স্বীকৃতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অঙ্গরাজ্য হবে না ক্যালিফোর্নিয়া। স্যাক্রামেন্টো বি-এর তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য এর আগে ঈদের ছুটি স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রস্তাবটি আরও এক ধাপ এগিয়ে রাজ্য কর্মীদের বেতনসহ বিদ্যমান ছুটির সুবিধা ব্যবহার করে ঈদ পালনের সুযোগ দেবে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম