পরিবেশ

মেক্সিকোর উপকূলে হারিকেন পোলো, এল নিনোর প্রভাবে শক্তিশালী ঝড়

মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী হারিকেন পোলো। বুধবার ঝড়টি বড় ধরনের হারিকেনে পরিণত হওয়ার পর উপকূলীয় এলাকায় বন্যা ও ভূমি ধ সের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, পোলো অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টি ঝরতে পারে। পোলো মেক্সিকোর গুয়েরেরো অঙ্গরাজ্যের উপকূল ঘেঁষে এগিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সরাসরি স্থলভাগে আঘাত হানার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ ও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। তবে মিচোয়াকান ও কোলিমা অঙ্গরাজ্যের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ভারী বৃষ্টি, ঝড়ো বাতাস ও বড় ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে। বুধবার বিকেল থেকেই উপকূলে বৃষ্টি ও শক্তিশালী বাতাস শুরু হয়। পোলো সর্বোচ্চ শক্তিতে ক্যাটাগরি ৫ হারিকেনে পরিণত হয়েছিল। তখন ঝড়টির সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮০ মাইল। বুধবার বিকেলে এটি ক্যাটাগরি ৪-এ নেমে এলেও বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪৫ মাইল। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, শক্তির কিছুটা ওঠানামা হলেও আগামী কয়েক দিন পোলো শক্তিশালী হারিকেন হিসেবেই থাকতে পারে। হারিকেনটির কারণে গুয়েরেরোতে উপকূলীয় বন্যা ও ভূমি ধ সের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে সতর্ক করা হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টিতে পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। মেক্সিকো সরকার কিছু এলাকায় মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে। নৌবাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী ও রেডক্রসের হাজারো সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা ও বাতাসের ধরনে পরিবর্তন এসেছে, যা পোলোকে দ্রুত শক্তিশালী হতে সহায়তা করেছে। কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞান বিভাগের গবেষক ফিলিপ ক্লটজবাখের মতে, হারিকেন দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি পরিবেশগত উপাদান একই সঙ্গে সক্রিয় ছিল। এদিকে হাওয়াইয়ের জন্যও নতুন ঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হনলুলুর দক্ষিণ-পূর্বে একটি ক্রান্তীয় নিম্নচাপ দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বৃহস্পতিবারের মধ্যে হারিকেনে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিগ আইল্যান্ডে ১৫ থেকে ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় বন্যা ও ভূমি ধ সের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার বা শনিবার ঝড়টি দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে থাকা হারিকেন ওডালিসও বুধবার শক্তিশালী হয়েছে। এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৭৫ মাইল। তবে এটি মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে অনেক দূরে অবস্থান করায় সরাসরি স্থলভাগে আঘাতের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার।