ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের পালুতে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৪৭ জনে। একটি চার্চের ধ্বংসস্তূপ থেকেই ৩৪ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, ভূমিকম্পে চার্চটি ধসে পড়েছিল।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইন ২ অক্টোবর, মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পালুতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ফলে সুনামির সৃষ্টি হয়। ১ অক্টোবর দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা জানিয়েছিল, নিহতের সংখ্যা ৮৪৪ জন। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে তা শুরু থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা। রেডক্রস বলছে, ভূমিকম্প ও সুনামিতে কমপক্ষে ১৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের চার দিন পরও কিছু কিছু দুর্গম এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।
ভারী সরঞ্জামাদির অপর্যাপ্ততার কারণে উদ্ধারকর্মীদের উদ্ধারকাজে ও ধসে পড়া ভবনের ভেতর চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধারে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ ১৪ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। পঁচাগলা লাশ থেকে যেন কোনো রোগ ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
সোমবার পুবোয়ায় দুর্যোগে নিহত ব্যক্তিদের মৃতদেহ দাফনের জন্য একশ’ মিটার দীর্ঘ গণকবর খুঁড়েছে দেশটির স্বেচ্ছাসেবকরা।
শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি হোটেল মাটির নিচে দেবে গেছে। শুধু এই হোটেলের নিচেই ৬০ জন চাপা পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার তল্লাশি ও উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, হোটেল রোয়া-রোয়া থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে আরও মানুষ জীবিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্প ও সুনামিতে যারা বেঁচে গেছেন তারা খাবার, পানি ও জ্বালানির মতো অতি প্রয়োজনীয় জিনিস দোকান থেকে লুট করছে। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করছে।
পালুর এক বাসিন্দা বলেন, ‘কোনো সাহায্য পৌঁছেনি। আমাদের খাবার নেই। বাধ্য হয়েই আমাদের খাবার লুট করতে হচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।’
পালুর একটি উপশহর বালারোয়ায় বিপুল ক্ষতি হয়েছে। শহরময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে উপড়ানো গাছ ও ডালপালা, কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপ, ধাতব দুমড়ানো ছাদ, দরজা ও ভাঙ্গা আসবাবপত্র।
চলমান সংকট মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ও এনজিওকে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন।
সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তা টম লেম্বং টুইটারে জানান, ‘গতরাতে প্রেসিডেন্ট জোকো জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলা ও ত্রাণ তৎপরতায় আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের অনুমোদন দিয়েছেন।’
ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারির প্রায় ৩৪ মিনিট পর তা তুলে নেয় ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূতত্ত্ব সংস্থা- বিএমকেজি।
এ নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। দ্রুত সতর্কতা তুলে নেওয়ার কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
বিএমকেজি কর্মকর্তারা বলেছেন, সুনামি সতর্কতা জারি থাকা অবস্থায় তিনটি ঢেউ পালুতে আঘাত হানে। সতর্কতা তুলে নেওয়ার পর আর কোনো ঢেউ আঘাত হানেনি।
সুনামি সতর্কতায় ০.৫ থেকে ৩ মিটার উঁচু ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলা হলেও প্রথম ঢেউটির উচ্চতা ছিল প্রায় ৬ মিটার। এ ব্যাপারে বিএমকেজির ভূমিকম্প ও সুনামি সেন্টারের প্রধান জানান, প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিএমকেজির অনেক সীমাবদ্ধতা আছে।
পালু শহরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার রাতে ‘বিচ ফেস্টিভ্যাল’ শুরু হওয়ার কথা ছিল। এই উৎসব উপলক্ষে সন্ধ্যায় কয়েকশ’ লোক পালুর সৈকতে জড়ো হয়েছিল। সুনামির সময় সৈকতে অবস্থানরত এসব মানুষদের ঢেউ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলছে, অধিবাসীদের ক্ষুদে বার্তা দিয়ে বার বার সতর্ক করা হলেও তারা বিষয়টি খেয়াল করেনি।
আর দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার মুখপাত্র বলছেন, ভূমিকম্পের কারণে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। ফলে উপকূলে কোনো সাইরেন বাজেনি।
এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইন ২ অক্টোবর, মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পালুতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ফলে সুনামির সৃষ্টি হয়। ১ অক্টোবর দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা জানিয়েছিল, নিহতের সংখ্যা ৮৪৪ জন। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে তা শুরু থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা। রেডক্রস বলছে, ভূমিকম্প ও সুনামিতে কমপক্ষে ১৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের চার দিন পরও কিছু কিছু দুর্গম এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।
ভারী সরঞ্জামাদির অপর্যাপ্ততার কারণে উদ্ধারকর্মীদের উদ্ধারকাজে ও ধসে পড়া ভবনের ভেতর চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধারে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ ১৪ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। পঁচাগলা লাশ থেকে যেন কোনো রোগ ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
সোমবার পুবোয়ায় দুর্যোগে নিহত ব্যক্তিদের মৃতদেহ দাফনের জন্য একশ’ মিটার দীর্ঘ গণকবর খুঁড়েছে দেশটির স্বেচ্ছাসেবকরা।
শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি হোটেল মাটির নিচে দেবে গেছে। শুধু এই হোটেলের নিচেই ৬০ জন চাপা পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার তল্লাশি ও উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, হোটেল রোয়া-রোয়া থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে আরও মানুষ জীবিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্প ও সুনামিতে যারা বেঁচে গেছেন তারা খাবার, পানি ও জ্বালানির মতো অতি প্রয়োজনীয় জিনিস দোকান থেকে লুট করছে। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করছে।
পালুর এক বাসিন্দা বলেন, ‘কোনো সাহায্য পৌঁছেনি। আমাদের খাবার নেই। বাধ্য হয়েই আমাদের খাবার লুট করতে হচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।’
পালুর একটি উপশহর বালারোয়ায় বিপুল ক্ষতি হয়েছে। শহরময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে উপড়ানো গাছ ও ডালপালা, কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপ, ধাতব দুমড়ানো ছাদ, দরজা ও ভাঙ্গা আসবাবপত্র।
চলমান সংকট মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ও এনজিওকে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন।
সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তা টম লেম্বং টুইটারে জানান, ‘গতরাতে প্রেসিডেন্ট জোকো জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলা ও ত্রাণ তৎপরতায় আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের অনুমোদন দিয়েছেন।’
ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারির প্রায় ৩৪ মিনিট পর তা তুলে নেয় ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূতত্ত্ব সংস্থা- বিএমকেজি।
এ নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। দ্রুত সতর্কতা তুলে নেওয়ার কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
বিএমকেজি কর্মকর্তারা বলেছেন, সুনামি সতর্কতা জারি থাকা অবস্থায় তিনটি ঢেউ পালুতে আঘাত হানে। সতর্কতা তুলে নেওয়ার পর আর কোনো ঢেউ আঘাত হানেনি।
সুনামি সতর্কতায় ০.৫ থেকে ৩ মিটার উঁচু ঢেউ আঘাত হানতে পারে বলা হলেও প্রথম ঢেউটির উচ্চতা ছিল প্রায় ৬ মিটার। এ ব্যাপারে বিএমকেজির ভূমিকম্প ও সুনামি সেন্টারের প্রধান জানান, প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিএমকেজির অনেক সীমাবদ্ধতা আছে।
পালু শহরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার রাতে ‘বিচ ফেস্টিভ্যাল’ শুরু হওয়ার কথা ছিল। এই উৎসব উপলক্ষে সন্ধ্যায় কয়েকশ’ লোক পালুর সৈকতে জড়ো হয়েছিল। সুনামির সময় সৈকতে অবস্থানরত এসব মানুষদের ঢেউ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলছে, অধিবাসীদের ক্ষুদে বার্তা দিয়ে বার বার সতর্ক করা হলেও তারা বিষয়টি খেয়াল করেনি।
আর দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার মুখপাত্র বলছেন, ভূমিকম্পের কারণে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। ফলে উপকূলে কোনো সাইরেন বাজেনি।
এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি