আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টে ম্যাকরোঁর অসম প্রেমের আখ্যান

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বন আমাজনে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের মধ্যে। একপর্যায়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণাত্বক হয়ে ওঠেন দুই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জোয়ার বলসোনারো এবং ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরোঁ। ম্যাকরোঁর স্ত্রীকে বলসোনারোর স্ত্রীর সঙ্গে তুলনা করে এক ব্রাজিলিয়ানের টুইটে মন্তব্য করেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট। এরপরই দুই প্রেসিডেন্টের স্ত্রীদের নিয়ে অনলাইনে মাতামাতি হচ্ছে।

এক ব্রাজিলিয়ান দুই প্রেসিডেন্টের স্ত্রীদের ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে মন্তব্য করেন, যে কারণে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের পেছনে লেগেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। সেই পোস্টের নিচে বিদ্রুপাত্মক কমেন্ট করেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারো।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের চেয়ে বয়সে অনেক বড় তার স্ত্রী। তবে তাদের মধ্যে ভালোবাসার এই কাহিনী বোধ হয় আপনি ঠিকমত জানেন না। বয়সে দুই যুগেরও বেশি বড় স্ত্রীকে পেতে অনেক সাধনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাঁকরো। চলুন এই অসমে প্রেমের সেই আখ্যানের কিছুটা জেনে নিই-

ম্যাকরোঁর চেয়ে ২৫ বছরের বড় স্ত্রী ব্রিজিত। মূলত ম্যাকরোঁর  স্কুলের নাটকের শিক্ষিকা ছিলেন ব্রিজিত। শিক্ষিকাকে দেখেই তার প্রেমে মজেছিলেন তিনি। ১৭ বছরের কিশোর ম্যাকরোঁ সাহস করে তার মনের কথা জানিয়ে দেন শিক্ষিকাকে। খানিকটা অবাক হলেও ছাত্রের কিশোর বয়সের আবেগ মনে করে কথাটি হেসে উড়িয়ে দেন ব্রিজিত। কিন্তু ম্যাকরোঁ ছিলেন অনড়।

২০০৭ সালে ঠিকই তিনি ব্রিজিতকে বিয়ে করেন। এসময় ছাত্র ম্যাকরোঁর বয়স ছিল ২৯, আর ব্রিজিতের ৫৪। ব্রিজিতের বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়ার পর তার তিন সন্তানের সম্মতি নিয়েই বিয়ে করেন ম্যাকরোঁ। বর্তমানে ৪১ বছর বয়সি ইমানুয়েল ম্যাকরোঁর স্ত্রীর বয়ষ ৬৬ বছর।

ম্যাকরোঁ-ব্রিজিতের অসম প্রেমকাহিনী নিয়ে ম্যাকরোঁ পরিবারে ওই সময় বেশ অশান্তি হয়েছিল। সেসব কথা উঠে এসেছে অ্যান ফোলদার লেখা ‘ইমানুয়েল ম্যাকরোঁ: অ্যা পারফেক্ট ইয়ং ম্যান’ বইতে। সেখানে বলা হয়েছে, ম্যাকরোঁর মা-বাবা ছেলের এই সম্পর্ক মেনে নেননি। কারণ, ব্রিজিত তখন বিবাহিত আর তিন সন্তানের জননী। ছেলের বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত তার কাছ থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন বাবা। ব্রিজিত কান্নামিশ্রিত কণ্ঠে তাকে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমি আপনাকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারছি না’।

তবে কবে একতরফা প্রেম দু’জনের হয়ে ওঠে, তা স্পষ্ট নয়। এ ব্যাপারে ব্রিজিতের বক্তব্য, ‘কেউ কোনোদিন জানবে না, কখন থেকে আমাদের গল্প একটি প্রেমের গল্পে পরিণত হয়েছে। এটা শুধুই আমাদের। আর এটাই আমাদের গোপন রহস্য’।

ব্রিজিতের বড় মেয়ে অজি জানিয়েছিলেন, ‘বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ইমানুয়েল ম্যাকরোঁ আমাদের বাড়ি আসেন। বলেন, তোমাদের মাকে আমি বিয়ে করতে চাই। এটা বলা খুবই কঠিন ব্যাপার ছিল। আমরা মেনে নেব কি না, সে ঝুঁকি তো ছিলই। তবে তিনি আমাদের না জানিয়ে কিছু করতে চাননি; বরং আমাদের সমর্থন চেয়েছিলেন।’

বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সে নারীর চেয়ে পুরুষ বড়, সমাজের চোখে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু নারী যখন পুরুষের চেয়ে বয়সে বড় হন, তখন সেটা নিয়ে নানা কথা হয়। এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে ম্যাকরোঁ-ব্রিজিত দম্পতিকেও। মাঝেমধ্যে এসব সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন ম্যাকরোঁ। একবার এমনই একটি সমালোচনার জবাবে ম্যাকরোঁ বলেছিলেন, ‘বয়সের ব্যবধানটা যদি উল্টো হতো অর্থাৎ আমি যদি আমার স্ত্রীর চেয়ে ২৪ বছরের বড় হতাম, তাহলে বিষয়টিকে কেউ অস্বাভাবিক বলতো না। মানুষ ভিন্ন কিছু দেখে অভ্যস্ত নয়’।

ফিলিপ বেঁসন নামে এই দম্পতির এক বন্ধু জানিয়েছিলেন, বিয়ের পর অনেক বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের; এমনকি তাদের পরিবারের সদস্যদেরও। তবে তারা দমে যাননি। এভাবেই চলেছ তাদের অনবদ্য প্রেমকাহিনী।