আন্তর্জাতিক

নারীশিক্ষার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা জরুরি : আফগানিস্তানকে মুফতি তাকি উসমানির চিঠি

আফগানিস্তানে নারীশিক্ষা বিষয়ে দেশটির বর্তমান সরকারকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন পাকিস্তানের বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার ও বিশ্বখ্যাত দাঈ মুফতি তাকি উসমানি।

বৃহস্পতিবার পাক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ওই চিঠিটি প্রকাশ করে।

চিঠিটির বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হলো-

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

মুহতারাম জনাব মোল্লা হাইবাতুল্লাহ সাহেব, আমিরুল মুমিনিন, ইসলামি ইমারাত, আফগানিস্তান।

আস সালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।

আমরা পাকিস্তানের মুসলিমরা দোয়া করি, যেমনিভাবে আল্লাহ তয়ালা আপনাদেরকে সারা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের সৈনিকদের মোকাবেলায় ‘ফাতহে মুবিন’ (সুস্পষ্ট বিজয়) দান করেছেন, তেমনিভাবে আফগানিস্তানকে একটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী কল্যাণময় ইসলামী রাষ্ট্র বানানোর তৌফিক দান করুন এবং এই পথের সব বাধা-বিপত্তি দূর করে দিন। আমিন।

ইতোপূর্বে আপনার পক্ষ থেকে কয়েকটি পত্র এই অধম বান্দার কাছে পৌঁছেছে। আমি অন্তরের অন্তরস্থল থেকে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী ইসলামী ইমারাতের খেদমতকে নিজের সৌভাগ্য মনে করি।

এই মুহূর্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মেয়েদের শিক্ষাসংক্রান্ত; যেটিকে শত্রুরা ইসলামী ইমারাতের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ ইসলামী ইমারাত এখনো পর্যন্ত যে দিল প্রশস্তকারী ও প্রজ্ঞাময় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, আমরা এগুলোর সম্মান করি। কিন্তু আমাদের অভিমত হলো এই যে, শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে নারীদের শিক্ষার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা খুবই জরুরি।

এর কারণ হচ্ছে-

প্রথমত, নারীদের বিভিন্ন বিষয়, যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা ও তাদের উপযুক্ত অন্যান্য কাজের জন্য শিক্ষিত নারী দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যেন সমাজে পুরুষ ও নারীর মাঝে মেলামেশার ফেতনা শেষ হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, এই ভিত্তিহীন প্রভাব ও ধারণা খতম করা আবশ্যক যে, ইসলাম অথবা ইসলামী ইমারাত নারীশিক্ষার বিরুদ্ধে। তবে অবশ্যই তাদের শিক্ষার এমন কোনো ব্যবস্থাপনা করা জরুরি, যা ছেলেদের শিক্ষা থেকে পৃথক হবে। শোনা যায়, ছেলে ও মেয়েদের পৃথক পৃথক শ্রেণীকক্ষের জন্য জায়গা পর্যাপ্ত নেই। কিন্তু এর সমাধান এটা হতে পারে যে, একই বিল্ডিং এ এক সময় ছেলেদের ক্লাস হবে এবং অন্য সময় মেয়েদের ক্লাস হবে। অথবা একই বিল্ডিংয়ের এক অংশে ছেলেদের এবং অপর অংশে মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থাপনা থাকবে। এই ধরনের আরো সমাধান পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ সহজেই বের করা যেতে পারে।

বিরোধী প্রোপাগান্ডাগুলোর কার্যকর প্রতিউত্তর প্রদানও গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুনাফিকদেরকে হত্যা না করার কারণ এটি বর্ণনা করেছেন যে, এর দ্বারা শত্রুরা এই প্রোপাগান্ডার সুযোগ পাবে যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ সাথীদেরকে হত্যা করেন।

সুতরাং যতদূর পর্যন্ত, শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে দুশমনের প্রোপাগান্ডার কার্যকর প্রতিউত্তর দেয়া সম্ভব, তা অবশ্যই দেয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা আপনাকে ইসলামি ইমারাতের মজবুতি, উন্নতি ও কল্যাণের মাধ্যম বানান।   এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আই

[এলএ বাংলাটাইমসের সব নিউজ আরও সহজভাবে পেতে ‘প্লে-স্টোর’ অথবা ‘আই স্টোর’ থেকে ডাউনলোড করুন আমাদের মোবাইল এপ।]