আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। তবে দলটির নিরাপত্তা, ভিসা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় ফিফা এবং আয়োজক দেশগুলোর কাছে বেশ কিছু বিশেষ নিশ্চয়তা চেয়েছে দেশটি।
ইরানের ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তারা নিজেদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রেখেই বিশ্বকাপে অংশ নেবে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, আয়োজকদের অবশ্যই ইরানের উদ্বেগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় যৌথভাবে শুরু হবে এবারের বিশ্বকাপ।
ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ সম্প্রতি কানাডায় প্রবেশের অনুমতি পাননি। এরপর তিনি জানান, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ইরান ফিফার কাছে ১০ দফা শর্ত দিয়েছে।
ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দলের সব খেলোয়াড়, কোচ এবং কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে যারা অতীতে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদেরও যেন প্রবেশে বাধা না দেওয়া হয়।
এছাড়া ইরান চেয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে তাদের জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করা হবে। বিমানবন্দর, হোটেল এবং স্টেডিয়ামে দলের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের ফুটবলাররা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত। তবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সব যোগ্যতাপ্রাপ্ত দলকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে ফিফাকে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। যদিও বর্তমানে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
তবে এসব উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ইরান। বরং দেশটি খেলতে চায়, তবে নিরাপত্তা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা পাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম