আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম যে মসজিদগুলো ইসলাম প্রসারে ভূমিকা রাখছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম মসজিদটি সম্প্রতি তার ১১০তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে। তবে মসজিদটির ইতিহাস সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বাইরের বিশ্ব এখনো পর্যন্ত তেমন কিছুই জানে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের ইতিহাস অনুসন্ধান খুব সাদামাটাভাবে হয়েছে। তবে দেশটিতে থাকা চমৎকার সব মসজিদ পরিদর্শন এই অবহেলার একটি মোক্ষম জবাব হতে পারে। একটি মসজিদের গল্প হচ্ছে তার মানুষের গল্প। এখানে আমেরিকান দুটি ঐতিহাসিক মসজিদের কথা তুলে ধরা হলো।

আমেরিকান মুসলিমদের গল্প অনুসন্ধানে আপনি চাইলে এসব মসজিদ পরিদর্শন করতে পারেন।

১. ব্রোকলিন মুসলিম মসজিদ, নিউইয়র্ক সিটি
আমেরিকার প্রাচীনতম এই মসজিদটি ব্রুকলিনের নিউইয়র্ক সিটির ওয়াশিংটন হাইটসের এক শান্ত-নিরিবিলি রাস্তার পাশে অবস্থিত। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে নির্মিত দ্বিতলা বিশিষ্ট মসজিদটি সাদা কাঠের সরু টুকরো দিয়ে আচ্ছাদিত এবং আনুভূমিক আকৃতির।

১৯০৭ সালে বাল্টিক রাষ্ট্র লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড ও বেলারুশের শ্বেতাঙ্গ তাতার জনগোষ্ঠীর মুসলিমদের দ্বারা মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়।

মসজিদটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেসাত রাখউইচ বলেন, ‘নিউইয়র্কে অভিবাসী হয়ে আসা তাতারদের জন্য মসজিদটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এটি একটি কষ্টিপাথরের মতো এবং এটি এমন একটি স্থান যেটি সম্পর্কে তারা জানত যে তারা এখানে আসতে পারে।’

আসল উপাসকরা এখান থেকে চলে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মসজিদটিতে মুসল্লির উপস্থিতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। যাইহোক, আলেসাত ও স্থানীয় মুসলিমদের আশা- আমেরিকান ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটির ১১০তম বার্ষিকী উদযাপন তাদের নতুন করে উজ্জীবিত করবে।

২. উত্তর দাকোটা মসজিদ, দাকোটা
কানাডিয়ান সীমানার কাছাকাছি ডাকোটা রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল কোণে অবস্থিত উত্তর ডাকোটা মসজিদটি খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। মসজিদটির নিকটতম শহরে জনসংখ্যা মাত্র ৫০ জন।

লেবানন ও সিরিয়ার মুসলিমরা সম্প্রদায়ের লোকেরা একটি স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ১৯২৯ সালে এখানে এই মসজিদটি নির্মাণ করে। ২০০৫ সালে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।

মসজিদটির আধুনিক কাঠামোটি নির্মাণ অত্যন্ত সহজ। ইটের তৈরি চতুর্ভুজ আকারের বিল্ডিংটিতে চারটি কৃত্রিম মিনার এবং তামার তৈরি ছোট আকারের একটি গম্বুজ রয়েছে। ১৯৭৯ সালে এটির মূল কাঠামো ভেঙ্গে যায়। পুনর্নির্মিত মসজিদটির অনেক কিছুই মূল কাঠামোর সঙ্গে মিল নেই।

আধুনিক এই মসজিদটির অভ্যন্তর ভাগও সমানভাবে অত্যন্ত সাধারণ। এতে কোনো জানালা এবং কেবলার দিক নির্দেশ করার জন্য কোনো মেহেরাব নেই। এতে বিছানো কার্পেট অটোমান অঞ্চল থেকে আনা হয়েছিল।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি