বিতর্কিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সারদা গ্রুপের অর্থ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গেলেন ভারতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা মিঠুন চক্রবতীও। সারদার কাছ থেকে পৌনে দুই কোটি টাকা নিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন তিনি।গত বছরের জুলাই মাসে সারদা কেলেঙ্কারির তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ইডি) লিখিত জিজ্ঞাসাবাদে মিঠুন এসব তথ্য জানান। সম্প্রতি তার দেয়া সেসব তথ্য প্রকাশ পেয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমে। লিখিত জবাবে মিঠুন জানান, একটি রাজনৈতিক টক শো করার জন্য সারদা গ্রুপের চেয়ারম্যান সুদীপ্ত সেন তাকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দিয়েছেন। বেঙ্গল মিডিয়া গ্রুপের সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল 'চ্যানেল টেন'-এ 'বাংলা বলছে সঙ্গে মিঠুন' নামের টক শো প্রচার হওয়ার কথা। মিঠুনকে এই চ্যানেলের 'প্রধান উপদেষ্টা'ও বানানো হয়েছিল। মিঠুন আরো জানিয়েছেন, ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতার বাংলা হোটেলে সাংবাদিক ও পরে সাংসদ কুনাল ঘোষের মাধ্যমে সারদা প্রধান সুদীপ্তর সঙ্গে প্রথম দেখা হয় তার। তখন টক শো আয়োজনের প্রস্তাব দেন সুদীপ্ত। পরে সুদীপ্ত সেন এক চিঠির মাধ্যমে তাকে এ বিষয়ক সম্মতিপত্র পাঠান। সঙ্গে ১০ লাখ টাকার একটি চেক। কিন্তু এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতিপত্রে সই হয়নি। পরে ধাপে ধাপে সারদার পক্ষ থেকে বাকি টাকা দেয়া হয় তাকে। এ টাকার আয়করও পরিশোধ করা হয়েছে। মিঠুনের দাবি, পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের আগে সারদা গ্রপ বা সুদীপ্ত সেনের অর্থ কেলেঙ্কারি বিষয়ে কিছু জানতেন না তিনি। মিঠুন চক্রবর্তীর এই জবাবের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেবে তদন্তকারীরা তা জানা যায়নি এখনো। উল্লেখ্য, বিতর্কিত ব্যবসায়ী সুদীপ্ত সেন তার সারদা গ্রুপের মাধ্যমে ১৭ লাখের বেশি আমানতকারীর কাছ থেকে প্রায় ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। বিষয়টি তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার তৎপরতা শুরু করলে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয় সিবিআইকে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষস্থানীয় ও প্রভাবশালী রাজনীতিকের বিরুদ্ধে সারদার অর্থ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। মিঠুন চক্রবর্তী তৃণমূল কংগ্রেসের টিকেটে রাজ্যসভার সদস্য হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তার ঘণিষ্ঠ সম্পর্ক।তদন্তে দেখা যায়, সারদার আমানত সংগ্রহ স্কিমের অংশ ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তীও। সূত্র: এনডিটিভি