লাইফ স্টাইল

যেভাবে বুঝবেন কেউ আপনার সাথে মিথ্যা বলছে কিনা

কেউ যখন কথা বলে আপনি কি বুঝতে পারেন সে মিথ্যে বলছে নাকি সত্য বলছে? কিন্তু কেমন হত যদি আপনি নিজেই বের করতে পারতেন কে সত্যবাদী আর কে মিথ্যাবাদী?
কথায় বলে চোর যখন চুরি করে তার কোন না কোন প্রমাণ সে রেখেই যায়। একইভাবে কেউ যখন মিথ্যে বলে তখন নিজের অজান্তেই সেও কিছু বৈশিষ্ট্য বহন করে যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন তিনি মিথ্যে বলছেন নাকি সত্য।একজন স্বীকৃত মিথ্যে সনাক্তকারী হলেন পামেলা মেয়ের। যিনি মিথ্যে সনাক্তকরা নিয়ে পরীক্ষা- নিরীক্ষা করেন। সাধারণের জন্য তার ঝুলি থেকে কিছু কৌশল জানালেন তিনি।পামেলা বলেন, আপনি হয়ত ভাবতে পারেন যিনি মিথ্যে বলছেন তিনি হয়ত উসখুশ করবেন। কিন্তু এমন অনেকেই আছেন যারা মিথ্যে বলার সময় একদম স্থির হয়ে যান। তাদের দেহের উপরের অংশ স্বাভাবিক নড়াচড়াও করে না। এর কারণ তখন তারা বেশি মনযোগী হয়ে পড়েন তাদের মিথ্যের দিকে। নিখুঁতভাবে মিথ্যেটি বলতে পারছেন কিনা তার উপর মনযোগ দিতে গিয়ে স্বাভাবিক আচরণটিও আর করতে পারেন না।আবার আপনার এও মনে হতে পারে যে, মিথ্যেবাদীরা চোখের দিকে তাকিয়ে মিথ্যে বলতে পারে না। কিন্তু না, মিথ্যেবাদীরা স্বাভাবিকেরও তুলনায় বেশি দৃষ্টি সংযোগ করে। নিজের মিথ্যেকে ঢাকার জন্যই একটু অতিরিক্তই দৃষ্টি সংযোগ করে তারা।কিন্তু শুধু কয়েকটা সংকেত দেখেই আপনি কাউকে মিথ্যেবাদী হিসেবে সনাক্ত করতে পারবেন না। বেশ কিছু সংকেত পর্যবেক্ষণ করেই তবে আপনি কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছুতে পারবেন।মিথ্যেবাদীরা মিথ্যে বলার সময় একধরণের সূক্ষ্ম হাসি দিয়ে থাকেন। মিথ্যে বলতে পেরে মানসিক শান্তি পাওয়ায় অবচেতনভাবেই এই হাসি দিয়ে থাকেন তারা। হাসি ছাড়াও আরো কিছু সংকেত পাওয়া যায় তাদের অঙ্গভঙ্গি লক্ষ্য করলে। যেমন কথা বলার সময় চেয়ারে বেশি হেলান দিয়ে বসা, বা নিচের দিকে তাকিয়ে থাকা। আবার তাদের কথা বলা লক্ষ্য করলেও কিছু সংকেত পাওয়া যায়। মিথ্যে বলার সময় তারা প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করেন। কেউ কেউ আবার খুব বেশি প্রতিজ্ঞা করেন। যেমন তিনি কোন কিছু করেননি এমনটা বোঝাতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, মা বা অনুভূতির সাথে জড়িত এমন ধরণের বিষয়গুলোর নামে প্রতিজ্ঞা করে কথা বলেন। নিজেকে খুব বেশি নির্দোষ প্রমাণ করতে তারা এটি করেন, যার মাত্রা অন্যদের তুলনায় বেশি। আবার নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে খুব বেশি বিস্তারিত বলাও মিথ্যে বলার আরেকটি লক্ষণ।এছাড়াও কারো গল্প বলার ধরণ দেখেও আপনি অনুমান করতে পারেন তিনি মিথ্যে বলছেন কিনা। যেমন, যখন কেউ মিথ্যে গল্প বলেন তখন হঠাৎ করেই তার গল্পের ইতি টানেন এবং গল্প বলার সময়ও তার অনুভূতি প্রকাশ করেন না। কিন্তু কেউ যখন সত্য কোন ঘটনা বা গল্প বলেন তার সাথে অনুভূতি জড়িত থাকে। ফলে পার্থক্যটা চোখে পড়ে সহজেই। কথা বলার সময় সত্য কথকরা কখনোই হঠাৎ করে তাদের গল্প শেষ করে দেন না। বরং গল্পের শেষভাগে অনেক বেশি অনুভূতি প্রকাশ করে থাকেন। এমনকি মিথ্যেবাদীদের মত তারা কাল অনুযায়ী ঘটনা সাজিয়ে বলতে পারেন না। গল্প বলতে বলতে যখন যেটা মনে পড়ে সেটিই আগে বলেন।এতো গেল বক্তার কথা থেকে মিথ্যে শনাক্ত করা। কিন্তু আপনি নিজেও বক্তাকে দিয়ে কথা বলিয়ে সত্য-মিথ্যে যাচাই করতে পারেন। আপনি কাউকে তার ইতিহাস/পটভূমি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। এই প্রশ্ন করে আপনি তাকে একধরণে মানসিক চাপের মধ্যে ফেলে দিলেন। কারণ কোন ব্যাক্তি তার অতীত ইতিহাস নিয়ে সাজিয়ে গুছিয়ে সব সময় প্রস্তুত হয়ে থাকে না। তাই চাহিদা অনুযায়ী স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিথ্যেকে চালিয়ে যেতে তাকে বেশ বেগ পেতে হয়। এই চাপকে সামাল দিতে গিয়ে তার মস্তিষ্ক অন্যান্য স্বাভাবিক ভঙ্গিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে তার অনিচ্ছাকৃত অঙ্গভঙ্গি ও কথা বলার ধরণগুলোও প্রকাশ পেয়ে যায়।কিন্তু সত্যিই একজন ভাল মিথ্যে সনাক্তকারী হওয়া কি এত সোজা? যদি আপনি একজন দক্ষ সনাক্তকারী হতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে কৌশলী হতে হবে এবং ভাল পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা থাকতে হবে। আপনাকে অবশ্যই একজন ভাল শ্রোতা হতে হবে।এবং মানব আচরণ নিয়ে কৌতূহল থাকতে হবে।একজন ভাল সনাক্তকারী কখনোই হঠাৎ করে কথার সমাপ্তিতে চলে যাবে না। অর্থাৎ কথা শেষ করে দিবে না। বরং বক্তার ব্যক্তিত্ব, উদ্দেশ্য ও উপস্থাপন ভঙ্গি থেকে বক্তাকে বোঝার চেষ্টা করবে।আপনি বক্তাকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে আপনি ঘটনাটি বুঝতে পেরেছেন। কেন ও কিভাবে তিনি করেছেন তাও বুঝতে পেরেছেন। কারণ কেউ যখন বুঝতে পারে যে তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে তখন স্বচ্ছন্দে আর কথা বলেন না। এমনকি তথ্য গোপন করে সব কথা নাও বলতে পারেন। কারণ প্রত্যেকেই নিজেদেরকে সত্যবাদী হিসেবে প্রকাশ করতে ভালবাসে। তাই তাকে কোনভাবেই বুঝতে দেওয়া যাবেনা যে, আপনি আসলে কি চাচ্ছেন।অর্থাৎ পরিস্থিতি বুঝে নিজের কাণ্ডজ্ঞানকে কাজে লাগাতে হবে অবশ্যই। সেই সাথে আপনাকে সাহায্য করতে বিশেষজ্ঞ পামেলার এই কৌশলগুলোত রইলই।তবে একজন মিথ্যে সনাক্তকারী হিসেবে আপনার লক্ষ্য কাউকে মিথ্যেবাদী হিসেবে প্রমাণ করা নয়, আপনার লক্ষ্য সত্যের কাছে পৌঁছানো।