আগামী তিন নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে জনমত জরিপে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীর চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন। রয়টার্স/ইপসোসের করা সমীক্ষা জরিপে দেখা যায়, ১৩ পয়েন্টের ব্যবধানে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। করোনাভাইরাস মহামারী এবং পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া নাগরিকদের ট্রাম্পের প্রতি ক্রমেই বিরূপ হয়ে উঠতে থাকায় তার সমর্থন কমছে। রাজনীতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, জর্জ ফ্লয়েড কে নিয়ে তৈরি হওয়া কৃষ্ণাঙ্গদের আন্দোলন ট্রাম্পের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাদের মতে, ট্রাম্প হয়তো বুঝতে পারেননি যে, আন্দোলন এতোটা জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। না হয় তিনিও হয়তো একটা রাজনৈতিক সমাধানের দিকে অনেক আগেই যেতেন। অবশ্য শুধু সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়, ট্রাম্পের উচিত ছিল আগে থেকেই একটু রাজনৈতিক শিষ্টাচার মেনে চলা।
১০ জুন থেকে ১৬ জুন পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের ৪৮ শতাংশ বলেন, তারা নির্বাচনে বাইডেনকে সমর্থন দেবেন। আর ৩৫ শতাংশ বলেন, তারা ট্রাম্পকে সমর্থন করবেন। জরিপ বলছে, এ বছর প্রার্থী বাছাইয়ে রাজ্য পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন প্রতিযোগিতা শুরুর পর থেকে বাইডেনের এটাই প্রথম সবচেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা। এ মাসের শুরুর দিকে সিএনএন- এর একই ধরনের একটি জরিপেও দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের চেয়ে ১৪ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন বাইডেন। নতুন এই সমীক্ষা ভাববার মতো বিষয় বলে মনে করছেন অনেকে। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছে, এতো দ্রুত জনমত একপেশে হয়ে যাওয়া সত্যিকার অর্থেই বিস্মিত হওয়ার মতো বিষয়। তবে এটাও ঠিক যে, এই আন্দোলনকে এতোটা ছোট করে ট্রাম্পের দেখা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কেউ কেউ অবশ্য সমীক্ষা জরিপকে নতুন করে খতিয়ে দেখার কথা বলছেন। তবে জরিপের এমন ফলাফল বেশির ভাগের কাছেই প্রত্যাশিত বলে জানা যাচ্ছে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের ৫৭ শতাংশই ট্রাম্পের কাজ কে সমর্থন করেননি। মাত্র ৩৮ শতাংশ মানুষ এ সমর্থন দিয়েছে। গত বছর নভেম্বরের পরে এটাই ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থনের সর্বনিম্ন রেটিং। ট্রাম্পের জন্য স্পষ্টতই এ এক সতর্ক বার্তা। জরিপের ফলে ট্রাম্পের সমর্থনের ভিত টলে যাচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। রিপাবলিকানদের মধ্যেও ট্রাম্পের সমর্থন মার্চ থেকে জুনের মধ্যে ১৩ পয়েন্ট কমেছে। অবশ্য রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার বিষয়ে অনেকেই হতাশ হচ্ছেন না। আশাবাদীদের অনেকেই বলছেন, রিপাবলিকানদের জনমত হয়তো ট্রাম্প আবার চেষ্টা করে উদ্ধার করতে পারেন। কারণ কেউ সহজে দলের প্রতি সমর্থন উঠাতে চায় না। তবে ট্রাম্পের জন্য এই জনমত ফিরে পাওয়াটা একটু কষ্টের হবে। কারণ সামনে সময়ও খুব বেশি নেই। তাই ট্রাম্পের উচিত হবে আবার নতুন করে সামনের নির্বাচনী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা।
এলএ বাংলা টাইমস/এম/বিএইচ