লস এঞ্জেলেস

করোনাকালে জনপ্রিয় হচ্ছে বাই-সাইকেল



প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে অন্য সব কিছুর ন্যায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে। রাস্তায় নামতে পারছে না গাড়ি-ট্রাকসহ অন্য পরিবহণ। এই সুযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে জনপ্রিয় হচ্ছে সাইক্লেং। দূষণ ও ট্রাফিক জ্যাম থেকে নাগরিক জীবনে স্বস্তি আনতে যারা সাইকেল রাইডকে জনপ্রিয় করতে কাজ করে চলেছেন তারা নতুন আশা দেখছেন। স্বপ্ন দেখছেন, এমন নাগরিক জীবনের যেখানে থাকবে না কোনো দূষণ, ট্রাফিক জ্যাম। থাকবে শুধু প্রাণখোলা মুক্ত ও নির্মল বাতাস।  


এর আগে এ রকম সংকটে দেশে সাইকেল জনপ্রিয় করেছে ডেনিশরা। সত্তরের দশকে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও দূষণ থেকে শহরকে বাঁচাতে ডেনিসরা বাই-সাইকেল বেছে নেয়।তাদের প্রচেষ্ঠা সফলও হয়। ডেনমার্কের রাজধানী কুপেনহেগেনে মানুষের চেয়ে এখন সাইকেলের সংখ্যা বেশি।রাজধানীর ৬২ শতাংশ মানুষ কর্মস্থল ও স্কুলে যায় সাইকেলে চড়ে। আর জাতীয় পর্যায়ে ২৬ শতাংশ নাগরিক সাড়ে তিন মাইলের মতো দূরত্বের রাস্তা সাইকেলে চড়েই যায়।     সাইকেল চালানো জনপ্রিয় করতে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও  কুপেনহেগেনের মতো ট্রেন্ড চলছে। 

পিপল ফর বাইক এর প্রেসিডেন্ট এবং সিও টিম ব্লুমেনথাল বলেন, এই সময়ে সাইকেল নিয়ে কথা বলাটা বেমানান। যখন অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন অথবা অসুস্থ আবার কেউবা হারিয়েছেন আপনজনকে।তবে একটা মৌলিক পরিবর্তন হয়েছে। 

ইকো সেন্টার নামের একটি সাইকেল কোম্পানি বলছে, ২০১৯ সালের তুলনায় মার্চ মাস থেকে শহরে সাইকেল চালানোর হার ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ১১০ শতাংশ সাইকেল চালানোর হার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করে রেলস-ট্রেলস কনসারভেন্সি নামের আরেকটি সংগঠন।  

পিপল ফর বাইক নামের একটি সাপ্তাহিকের উদ্ধৃতি দিয়ে টিম ব্লুমেনথাল বলেন, করোনা মহামারির কারণে ৯ শ ৩২ জন আমেরিকান নাগরিক এবং নয় শতাংশ তরুণ এই বছর প্রথম সাইকেল চালানো শুরু করেন।তারা পরবর্তী সময়েও সাইকেল চালিয়ে যাবার কথা বলেছেন।   

করোনাভাইরাস মহামারির সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ করতে ছেলেমেয়েদের সব ধরণের আউটডোর খেলেধুলা করতে ‘না’ করা হয়েছে।একমাত্র আউটডোর গেম হিসেবে সাক্লেং রয়েছে যা সকল বয়সের ছেলেমেয়ারা নিরাপদে অংশ নিতে পারে। 

সাইকেলের দোকানগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে। তারা আগের চেয়ে বেশি অর্ডার পাচ্ছেন। ইএল কামিনোর ছোট একটা সাইকেল দোকানের মালিক রেইনার জেযলিন বলেন, এবারের মতো আর কোনো সময় আমি এতো ব্যস্ত সময় পার করিনি।  তাঁর দোকানে বিক্রয় বেড়েছে। বিশেষ করে ১ হাজার ৫ শ ডলার থেকে কম দামের সাইকেল গুলো সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমাদের কোনো প্রডাক্ট স্টকে থাকছে না। 

জেযলিনের মতো অন্য ব্যবসায়ীদেরও একই অবস্থা। চাহিদা বেশি হবার কারণে তাদের দোকান গুলোতেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।তবে দু হাজার ডলারের ওপরের সাইকেলগুলো স্টকে থেকে যাচ্ছে।  

জাপানি সাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শিমানোর উত্তর আমেরিকা ডিভিশনের সহকারি ভাইস প্রেসিডেন্ট নোলেন মোসার বলেন,তাঁর কোম্পানির প্রডাক্টরের চাহিদা এখন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, নতুন নতুন মানুষ সাইলেল চালাচ্ছে।মানুষ সাইকেলে ফিরে যাচ্ছে। সাইকেলের বিক্রিও বেড়েছে। পিপল ফর বাইকের হিসেব মতে, ২০১৯ সালের তুলনায়  বিক্রির হার এ বছর ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। 

নোলেন মোসা বলেন, গত তিন মাসে সাইকেল বিক্রি গেলো পঞ্চাশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে। এরকম হয়েছিলো সত্তরের দশকে যখন আরব দেশগুলো তেল অবরোধ করেছিলো। 

ক্যালিফোর্নিয়া বাই-সাইকেল এ্যাসোসিয়েশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টার ডেভিড স্নাইডার বলেন, আমি চিন্তিত যে এই সময়টা সংক্ষিপ্ত। ইতিমধ্যে গাড়ি ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, তাদের সংস্থার গবেষণা মতে ক্যালিফোর্নিয়ার অধিকাংশ মানুষ সাইকেল চালায়।কিন্তু সমস্যা হলো তারা রাস্তায় চালিয়ে স্বস্তি বোধ করেন না। তারা সাইকেল চালায় ছুটিতে কিংবা কোনো কোনো উৎসবে।

স্নাইডার বলেন, বাইকের জন্য আলাদা বাজেট প্রদান অনুমোদন করা হয়েছে। ক্যালট্রেন্স সাত মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছে। স্টেট থেকে দেওয়া হবে ২২০ মিলিয়ন ডলার যা দিয়ে সাইকেল রাইডিং নিরাপদ করতে রাস্তায় অস্থায়ী প্রতিবন্ধক, আলাদা ল্যান করা হবে। 

সব কিছু বন্ধ থাকার ফলে অনেকে রাস্তায় সাইকেল নিয়ে বের হয়েছে।তাদের মধ্যে কম বয়সী ছেলে মেয়ের সংখ্যায় বেশি। তারা বলছে রাস্তা নিরাপদ। তেমন ঝুঁকি নেই। গাড়ি কম।সাইকেল চালাতেও ভালো লাগে। 

পিপল ফর বাইকের প্রেসিডেন্ট এবং সিও টিম ব্লুমেনথাল সাইকেল নিয়ে খুবই আশাবাদী। তিনি বলেন, ডেনমার্কে রাতারাতি কিছু হয়নি। যদি আমরা না পারি তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা করবে।  এলএ বাংলা টাইমস/এস/আর